শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬ ।। ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দলে গতি আনতে পরিকল্পনা জানালেন ইসলামী আন্দোলনের নতুন মহাসচিব ‘এ দেশে এক পীরের যত মুরীদ আছে পুরো জামায়াত মিলেও এত লোক নেই’ জমিয়তের ঢাকা মহানগর উত্তর কাউন্সিল সফল করতে মতবিনিময় সভা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কওমি শিক্ষার্থীদের ভূমিকার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি নেজামে ইসলাম পার্টির ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির কে কোন দায়িত্ব পেলেন জুলাইয়ের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া সেই যুবক মুয়াজ্জিন নন! আমিরে মজলিসের সঙ্গে বগুড়া জেলা নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন পীর সাহেব চরমোনাই

শরিয়া রাষ্ট্র প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুলের মন্তব্য ও কিছু কথা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: আওয়ার ইসলাম

|| মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ ||

মির্জা সাহেবের (বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) কথাবার্তার মধ্যে এক ধরনের বাম আভিজাত্য/প্রাচীনত্ব থাকে। বিশেষত ধর্ম ও রাজনীতি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করার সময়। যেমন এই (মানুষ শরিয়া রাষ্ট্র চায়, যা মানুষের চাওয়ার সঙ্গে যায় না) বক্তব্যটি। আগেও এ-জাতীয় কথাবার্তা তিনি বলেছেন। বিএনপির মতো বড় একটি দলের উঁচু পদে বসে স্পর্শকাতর বিষয়ে কথাবার্তা বলার সময় একটু ডানে-বাঁয়ে হুঁশ থাকাটা তো দরকার।

শরিয়া রাষ্ট্র এটাতো কোনো জামায়াতের নিজস্ব দলীয় প্রজেক্ট না, এটাতো মৌলিকভাবে ইসলামের বিষয়। শরিয়া রাষ্ট্র ধারণার বিরুদ্ধে কথা বলার মানে হলো, ইসলামের রাষ্ট্রীয় কনসেপ্টের বিরুদ্ধে কথা বলা। এটা যে কত মারাত্মক একটা জিনিস এটা কি উনি কিংবা ওনার আশেপাশের লোকেরা বোঝেন?

বিএনপি'র মতো আধা পুঁজিবাদী, আধা সেকুলার একটি দল শরিয়া রাষ্ট্র করবে না এটা তো বোধগম্যই, কিন্তু কনসেপ্টটাকে ধরেই বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে কেন? আগে তো এমন করতে হয়নি। আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, খন্দকার দেলোয়ার সাহেবের মতো লোকেরা তো শরিয়ার প্রতি দুর্বল কোনো লোক ছিলেন না, তারপরও এজাতীয় কথা তারা বলেন নাই। উনার বলতে হবে কেন?

জামায়াতের প্রথাগত রাজনীতির সমালোচনা করুন। তা না করে উনারা জামায়াতের শরিয়া প্রজেক্ট, পর্দা এবং অন্যান্য ইসলামি ইস্যুগুলোর বিরোধিতা করতে থাকেন। মুসলিম হিসেবে এবং এ-দেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এটা অত্যন্ত বোকামি ও গর্হিত কাজ। এটা তাকে বোঝানো দরকার। যদি কেউ থাকেন বোঝাতে পারেন। না হলে তাদের মতো তাদের ক্ষতি তাদের হতে থাকবে।

আরেকটা কথা, 'শরিয়া রাষ্ট্র এদেশের মানুষের চাওয়ার সঙ্গে যায় না' এজাতীয় শাহরিয়ার কবীর মার্কা কিংবা রাশেদ খান মেনন মার্কা কথাবার্তা ওনার মুখে মানায় না। সমস্যাটা উনার একার না, মুসলিম দেশগুলোর আধুনিক শিক্ষিত রাজনীতিক, পেশাজীবী লাখো মানুষের মনস্তত্ত্ব আধুনিকতা, রাজনীতি ইত্যাদি সম্পর্কে এরকমই। তারা জীবন-যাপনের মূলকেন্দ্রে দ্বীনকে গ্রহণ করতেই চান না এবং এটাকে তার ধর্ম পালনের জন্য ক্ষতিকর কোনো ব্যাপার মনেও করেন না। কিন্তু এটা তো ঠিক না এই চিন্তাটা তো ভুল। আপনার দল অনেক কিছুই করবে না, পারবে না বলেই করবে না। কিন্তু তাত্ত্বিক একটা বিরোধী অবস্থান নিয়ে 'এটা ঠিক না, এটা মানুষ চায় না' এজাতীয় বাম-তাত্ত্বিকসুলভ কথা বিএনপির রাজনীতির দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তির মুখে মানায় না, সঙ্গত না, উচিত না। আল্লাহ তাআলা বুঝ দিন।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, আলোচক ও বিশ্লেষক

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ