নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যাসিবাদের পতনের পর এর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও মতাদর্শিক আধিপত্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজী।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষকতায় যারা ‘ভ্রান্ত ও বিকৃত মতাদর্শের আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠা করেছিল, ফ্যাসিবাদের পতনের পর তাদের অবাধ বিচরণ ও আধিপত্যের অবসান ঘটাই স্বাভাবিক। এটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক—উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকে শুধু রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে দেখলে চলবে না। দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও মতাদর্শিক আধিপত্যের বিরুদ্ধেও এ আন্দোলন ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদ যেমন দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তেমনি সাংস্কৃতিক আধিপত্যও মানুষের চিন্তা, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
রাজী প্রশ্ন তোলেন, ফ্যাসিবাদের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার প্রত্যাখ্যান করা হলেও তার পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক আধিপত্যকে ‘কালচার’ বা সংস্কৃতির আড়ালে নিরাপদ রাখা হলে সেটিকে কীভাবে সংস্কার বলা যায়। তার মতে, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হলে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক—দুই ধরনের উত্তরাধিকার নিয়েই প্রশ্ন তুলতে হবে।
জুলাই সনদের ইতিহাস ১৯৪৭ সাল থেকে দেশের ইতিহাস ও জনআকাঙ্ক্ষার ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত হলে এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ‘পশ্চিমাদের খুশি করার এজেন্ডা’কে ‘কালচারাল সংস্কার’ নামে দেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করেন।
দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী রাজনীতিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সাংস্কৃতিক আকাঙ্ক্ষা ও ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুনের বিষয়টি বিবেচনায় নেয় বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন রাজী। তবে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা সীমিত থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমা বিশ্বের সন্তুষ্টিকে তাদের রাজনৈতিক প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করেছে।
সবশেষে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থান শুধু রাজনীতিতে নয়, চিন্তা, সংস্কৃতি ও মতাদর্শের ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতের বাইরে গিয়ে ফ্যাসিবাদের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার টিকিয়ে রাখা হলে সেই সংস্কার পূর্ণাঙ্গ হবে না।
আইও/