ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নেতৃদ্বয় এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ইরানের সার্বভৌম ভূখণ্ডে এ সামরিক আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ ও রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতার নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর নগ্ন আক্রমণ এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি।
তাঁরা বলেন, বিশ্ব রাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আধিপত্যবাদী মনোভাব আবারও উন্মোচিত হয়েছে। শক্তির জোরে অন্য রাষ্ট্রের ওপর আগ্রাসন চালানো আধুনিক সভ্যতার জন্য লজ্জাজনক এবং বিশ্বশান্তির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
নেতৃদ্বয় বলেন, আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের আগ্রাসী নীতিকে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক সহায়তা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে একতরফা শক্তির ভারসাম্য তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পক্ষপাতদুষ্ট নীতি অঞ্চলটিকে ক্রমাগত যুদ্ধ, অস্থিরতা ও মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইরানে আজকের হামলা সেই ধারাবাহিক সাম্রাজ্যবাদী নীতিরই বহিঃপ্রকাশ।
তাঁরা বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের সার্বভৌমত্বে হামলা শুধু একটি দেশের বিরুদ্ধে নয়; এটি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর আঘাত। এ আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার দায়ভার আগ্রাসী শক্তিকেই বহন করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহ, বিশেষ করে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর নীরবতা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। মুসলিম উম্মাহর স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। একই সঙ্গে জাতিসংঘকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।
নেতৃদ্বয় জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধ কখনো স্থায়ী সমাধান নয়। সামরিক আগ্রাসন বন্ধ করে অবিলম্বে কূটনৈতিক সংলাপ শুরু করতে হবে। অন্যথায় মধ্যপ্রাচ্যের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সমগ্র বিশ্বে অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আগ্রাসন বন্ধ, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে সচেতন, ঐক্যবদ্ধ ও ঈমানি দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
এমএম/