নিজস্ব প্রতিবেদক
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসের আংশিক উপস্থাপনাকে পূর্ণাঙ্গ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল পুরোনো বন্দোবস্ত ছুড়ে ফেলে দেশ উপযোগী নতুন বন্দোবস্তের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু জুলাইয়ের সামনের সারির কতিপয় নেতা পুরোনো ব্যবস্থাকে নতুন রূপে উপস্থাপন করে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি-নৈতিকতার ক্ষেত্রেও পুরোনো সিস্টেমকে নতুন সিস্টেম হিসেবে চালিয়ে দিয়েছেন। এর প্রভাব জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরেও পড়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের ইতিহাস থেকে ইসলামপন্থীদের মুছে দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের (পীর সাহেব চরমোনাই) বক্তব্যের মাধ্যমে থেমে যাওয়া আন্দোলন নতুন গতি পেয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর ১৯ জুলাই ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রতিবাদ জানিয়ে পীর সাহেব চরমোনাই বলেছিলেন, ‘হে নরপিশাচ! তুই আমার সন্তানের বুকে কেন গুলি করলি?’ আন্দোলনের শুরু থেকে বিশেষ করে ৩, ৪ ও ৫ আগস্ট ১৪৪ ধারা ভেঙে রাজপথের উত্তপ্ত স্লোগান—‘দফা এক, দাবি এক—শেখ হাসিনার পদত্যাগ’—এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো জাদুঘরে স্থান পায়নি।
তিনি বলেন, মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে আংশিক প্রদর্শনীকে পূর্ণাঙ্গ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা ইতিহাস বিকৃতিরই নামান্তর। এমন বিকৃত উপস্থাপনার তিনি নিন্দা জানান।
এ সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নগর সেক্রেটারি কেএম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখতে এত বড় একটি প্রকল্প নেওয়া হলেও মনে হচ্ছে এটি দেখভালের মতো কেউ নেই। জঘন্য টিকিটিং ব্যবস্থা, চেকিং ব্যবস্থায় শূন্য পর্যায়ের তদারকি এবং ইতিহাসের খণ্ডিত উপস্থাপন জনগণের মনে আঘাত দিয়েছে।
তিনি বলেন, এত বড় একটি প্রকল্প এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান মানুষের কাছে হাসির খোরাকেও পরিণত হতে পারে। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিহাসকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসকে চোখের সামনে নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ পরিদর্শন টিমে আরও ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, জয়েন্ট সেক্রেটারি ফজলুল হক মৃধা, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুফতি আবদুল আহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কামাল হোসাইন, তরিক মাসউদ, প্রচার সম্পাদক প্রভাষক শফিকুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা গাজী নাজিমুদ্দীন, ছাত্রী ও মহিলা ইউনিট সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মাহবুবুর রহমান, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক আকন, সহপ্রচার সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান, সহদপ্তর সম্পাদক মুহাম্মাদ বিলাল হোসাইন পাটোয়ারী, সহদাওয়াহ ও জনশক্তি সম্পাদক মাওলানা নিজাম উদ্দীন, সহছাত্রী ও মহিলা ইউনিট সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ আবু বকর, সহনির্বাচন ও জনপ্রতিনিধি সম্পাদক মুহাম্মাদ আবু হানিফ, মাওলানা খোরশেদ আলম, আরিয়ান মো. ইমন প্রমুখ।
আইও/