সভেতলানা আলেক্সিয়েভিচ, ২০১৫
সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৫ সালের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলারুশের সাহিত্যিক ও অনুসন্ধানী নারী সাংবাদিক সভেতলানা আলেক্সিয়েভিচ (Svetlana Aleksijevitj)। ২০১৪ সালেও সুইডিশ নোবেল কমিটির সংক্ষিপ্ত তালিকায় সভেতলানার নাম ছিলো। নারী নোবেল বিজয়ী হিসেবে তার স্থান ১৪ তম। ৬৭ বছর বয়সী এই সাহিত্যিকের লেখনীকে বর্তমান সময়ের একটি 'স্মৃতিস্তম্ভ' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সুইডেনের নোবেল কমিটি। নোবেলবিজয়ী এই ‘বেলারুশ লেখক’ মাতৃভাষা বেলারুশিতে লিখতে জানেন না, লেখেন রুশ ভাষায়। রুশ ভাষার যে পাঁচজন কবি-ঔপন্যাসিক নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, তারা সবাই ছিলেন পুরুষ। সভেতলানা আলেক্সিয়েভিচ প্রথম নারী রুশভাষী লেখক, যিনি নোবেল পেলেন।
১৯৮৫ সালে প্রকাশিত তার প্রথম উপন্যাস 'ওয়ার আনওমেনলি ফেস' ও ১৯৯৩ সালে প্রাকশিত 'জিংকি বয়স' বইয়ের জন্য সুপরিচিত। 'ওয়ার আনওমেনলি ফেস' এ পর্যন্ত অন্তত ২০ লাখ কপি বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া ‘ভয়েসেস অব ইউটোপিয়া’ ও ইউক্রেনের চেরনোবিলে পারমাণবিক চুল্লির দুর্ঘটনার পরে ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয় তার সবচেয়ে আলোচিত বই ‘ভয়েসেস অব চেরনোবিল ক্রনিকাল অব দি ফিউচার’। সভেতলানার সর্বশেষ গ্রন্থ ‘সেকেন্ডহ্যান্ড টাইপ’ ২০১৩ সালে প্রকাশিত হয়। সাক্ষাতকারভিত্তিক প্রামাণ্য প্রতিবেদনের এসব গ্রন্থে সোভিয়েত আমল ও সোভিয়েতপরবর্তী যুদ্ধবিগ্রহ ও মানবজীবনের সঙ্কটকালীন নানা দিক উঠে এসেছে। যার ফলে তার লেখা অনেক সময়েই রাজনৈতিক নেতাদের রোষানলে পড়েছেন। তখন সভেতলানা বাধ্য হয়েছেন দেশ ছেড়ে ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেনে আশ্রয় নিতে।
সেভেটলানা আলেক্সিভিচ ১৯৪৮ সালের ৩১ মে ইউক্রেনের ইভানো ফ্রান্কোভস্ক শহরে জন্মগ্রহন করেন। তার মা ইউক্রেনের নাগরিক কিন্তু বাবা বেলেরুশের। তাই পরবর্তীকালে তার বেড়ে ওঠা হয় বেলারুশে। বাবা প্রথমে সেনাবাহিনীতে কাজ করতেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে বেলারুশে চলে আসেন। বাবা-মা দু’জনেই শিকতা শুরু করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি মিনস্ক ইউনিভার্সিটিতে সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হন। প্রথমে পোল্যান্ডের সীমান্তে একটি সংবাদপত্রে চাকরি করতেন। পরে মিনস্কে-ই ফিরে এসে সাংবাদিকতার কাজেই যুক্ত থাকেন তিনি। এই সময়ে তিনি লেখালেখিতে অনেক জাতীয় পুরস্কার পান। তবে শুরুর দিকে স্কুল জীবনে তিন
