সাকিব মুস্তানসির : প্রতিবন্ধী শব্দটিতেই কেমন যেন অবজ্ঞা ও অনুকম্পা লুকিয়ে আছে। শব্দটি কানে আসা মাত্রই আমরা ভ্রূ কুঁচকে অবহেলার চোখে দেখি। অনুকম্পায় পাশ কাটিয়ে যাই। একজন মানুষের পরিচয় আসলে মানুষ হিসেবেই। মানুষ কখনো প্রতিবন্ধী হয় না, হতে পারেনা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নানান রূপে রঙে তার সৃষ্টি জগত সাজিয়েছেন। এখানে সবাই সমান। কেউ ছোট নয় কেউ বড় নয়। প্রতিবন্ধীরা আমাদের মতই মানুষ। প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয় বরং উপযোগী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারাও অন্যান্য সুস্থ স্বাভাবিক মানুষদের মতই পরিবারের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে অবদান রাখতে পারে। এজন্য প্রয়োজন সুযোগ সৃষ্টি করা। কেয়া নিট কম্পোজিট কারখানা এক্ষেত্রে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
কেয়া নিট কম্পোজিট কারখানায় প্রায় সাত হাজার শ্রমিক কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে ৯৬৬ জন শ্রবণ, বাকপ্রতিবন্ধী, বামন ও অন্যান্য শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে মানসিক শক্তিদিয়ে পরাজিত করে অর্থনীতির মূল ধারায় নিজেদের যুক্ত করার মাধ্যমে জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে চলেছেন এরা। পারিবারিক তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, সামাজিক অবহেলাকে লজ্জা দিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে নিজেদের প্রতিবন্ধকতাকে পরাজিত করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। সিকিউরিটি গার্ড থেকে শুরু করে রিসিভ এন্ড ডেলিভারি সেকশন, সুইং সেকশন, মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ সহ উৎপাদনের অন্যান্য সকল বিভাগে সফলতার সাথে কাজ করে চলেছেন।
গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে হাতের বাঁয়ে ভাঙাচোরা সড়ক ধরে কয়েক কিলোমিটার এগোলেই জরুন এলাকায় কেয়া নিট কম্পোজিট কারখানা।তিনশ’ বিঘা জমির ওপর কেয়া গ্রুপের বিরাট চত্বরে কেয়া নিট কম্পোজিট কারখানাটিই সবচেয়ে বড়। ৯ লাখ ২০ হাজার বর্গফুট জায়গা। অপর পাশে এক ছাদের নিচে কেয়া কটন মিলস, কেয়া স্পিনিং মিলস ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস। মাঝে ৬০ ফুট চওড়া সড়ক। সড়ক বিভাজকের ওপর কাঠবাদাম, কৃষ্ণচূড়া, চেরি ফল ও নারকেলগাছের সারি। কারখানাটিতে গড়ে প্রতিদিন ২ লাখ ৬০ হাজার থেকে ২ লাখ ৭০ হাজার টি-শার্ট উৎপাদিত হয়। ইউরোপ ও আমেরিকায় কেয়া গ্রুপের নিজস্ব ব্র্যান্ড নামেই এগুলো রপ্তানি করা হয়। বর্তমানে মাসে প্রায় ৭০ লাখ
মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে কেয়া গ্রুপ। তুলা থেকে সুতা, সেই সুতা থেকে কাপড় তৈরি করে রং করা এবং সবশেষে পোশাক—সবই হয় একই কারখানায়।
[caption id="attachment_1774" align="alignright" width="300"]
৯৬৬ জন প্রতিবন্ধীকে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার মূল কারিগর কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল খালেক পাঠান।[/caption]
৯৬৬ জন প্রতিবন্ধীকে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার মূল কারিগর কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল খালেক পাঠান। আব্দুল খালেক পাঠান ১৯৭৭ সালে এসএসসি পাস করে গাজীপুরের একটি ইটভাটায় কাজ নেন। কয়েক বছর কাজ করার পর জমি ভাড়া নিয়ে নিজেই ইটভাটা দà