সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :

সওবত আলীর চোখে জল

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

masudআলমগীর মাসুদ : তুলানগরে জন্ম তার। বাবার সঙ্গে কাচিম লোহার ছুড়ি আর ভাঙা দা নিয়ে ঘুরে বেড়ানোই তার কাজ। একটা নিমকি আর একমগ জল খায় সে। রাস্তার কুলে বসে বাবার চা খাওয়া দেখে সুজাবত। ঠোঁটের আগায় জিব্বা দিয়ে নেড়ে নেড়ে সকাল বেলার রঙ চা খাওয়ার সুখ খুঁজে নে একবার। তবুও বাবাকে বলতে পারেনা এক কাপ চা খাবে। হাতে একটা বিড়ি ধরিয়ে বাকিগুলো প্লাস্টিকের একাংশে যত্ন করে কোমরে গুঁজে নেয় সওবত আলী। ‘সুজা তাড়াতাড়ি হাট, রোদ যেমুন উঠছে হাঁটতি পাইরবি না। শরীরে ক্লান্তি আইসা যাইব।’
‘বাবু তোমারে এককান কতা কইতাম- কিছু মনে নি কর?’
‘কইয়া ফেলা’
‘আমারে তোমার লগে না রাইখা গঞ্জের দোকানে কামে লাগাই দেও। তোমার জইন্যে পরান পুরে বাবুÑতুমি আর এই দাউ লোহা নিয়া গাঁয়ে গাঁয়ে হাঁট না।’
‘না বাপ- এই কতা কইস না। তোর দাদার কথা না হুনে আইজ আমি এই লোহার বোজা টানতাছি। বাপ আমার, মন দিয়া হুন- তোর দাদা একজন তুলা চাষি ছিলো, তুলা হুকাইয়া সে গঞ্জে বিক্রি করতে জাইত। লগে আমারেও নিত। বাবা চাইতো তার লগে আমিও পেশাটা শিখি। কিন্তুক আমি রাজি না থাইকা ধরছি এই কাম। আইজ দেখ, তুলানগরের বেশিরভাগ মানুষ গঞ্জে লেপ তোশকের দোকান দিয়ে কেমন ব্যবসা করে দিন দিন পয়সাওয়ালা হচ্ছে। তুই গঞ্জে কাম করলে মানুষ সমালোচনা করব। কেউ দাম দিব না আমাগো।’

সুজাবত কথা বলে না। বাবার দিকে একবার ফিরে ফের হেঁটে চলে। মাটির তোলা ঘর, উপরে শনের ছাউনি কৈপাড়া গ্রামে রাস্তার মোড়ের ছোট্ট দোকানটিতে কয়েকজন চা খায়। বাহিরে ক্যারাম খেলছে সতের কি আঠারো বছরের দুটি ছেলে। তাদের ঘিরে খেলা দেখছে আরো কয়েকজন। সুজাবতও এসে দাঁড়ায়। মনোযোগ দিয়ে খেলা দেখা হয় না সুজাবতের। তার আগেই বাবার ডাক পড়ে। ‘ওই সুজা.... অইখানে কি? গা থেকা গামছা খোল... আঙুলের ইশারায় সওবত আলী ছেলেকে দেখিয়ে দেয়Ñওই বেড়া দেয়া বাড়িটা? হেয়ানো যা, গিয়া কবি গত মাসে কাচির বুক কাটা আর দুই টা ছুরি’র শান দেয়ার বাকি টেকা দিতে।’

দুই
‘এইদেশে কি কামলা-গো দাম আছে? হেরা দাম না কইরা কাম শেষে টেকা দিব কম আর আমরা ঠেকা পইরা তাগো কথামত মাথা নিচু কইরা ফিরা আসুম, কাজের মূল্য চাইতে পারিনা, গায়ে হাত তোলে আর খেদাইয়া কয়, তোরারে দিলে হয় না। আরো বেশি চাস, ফকিরের জাত যত পায় তত খায়। এরম কথা হুইনা গেরামো গেরামো আমাগো কাম করতে হয়।’
গামছাটা আগেই সুজাবতের হাতে ছিলো। সে মার খাওয়ার সময় গামছাটা হাত থেকে ছাড়েনি। কারন গামছাটা তার বাবা’র।
সওবত আলী কথা শেষ করলে সুজাবতকে সত্য কথা বলতে বলে মাতবর।

‘আমি ক্যারাম খেলায় দাঁড়িয়ে থাকলে, বাবু ডাক দিয়া কইছিলো- ওই বাড়ি থেকা আগের কাম করার টেকা নিয়া আইতে। আমি বাবু’র কথামত যাইয়া উঠানো দাঁড়াই, বাড়িতে কারো মুখ না দেইখা- তা গো দরজায় হাত রেখে ডাক দিই। ভীতর থিকা ওই মামুনি চিকৎকার দিয়া কয়, চোর চোর চোর... আমি তাইনেরে বাবু’র কথা বললেও ওরা শুনেনি। আমারে চোর কইয়া মারছে।’
সুজাবত কান্নার কারনে মাতবà