সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব ও কাতারের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ বিশ্বজয়ী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে সংবর্ধনা দিল ধর্ম মন্ত্রণালয় লক্ষ্মীপুরে ড্রাম ট্রাকচাপায় বৃদ্ধ ভ্যানচালকের মৃত্যু দেশে ফিরেছেন মালয়েশিয়ায় কুরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হাফেজ হিরা ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে ইসির বৈঠক ‘নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে 'জিরো টলারেন্স' কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই’ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক যা চাচ্ছে, নতুন সরকারও তাই চাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু আজ, প্রচারণার নির্দেশ

শোকের কবিতা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

বাংলাদেশের বাড়ি
মজিদ মাহমুদ

সবারই তো বাড়ি আছে
কেবল যার খেয়ে-পরে বেঁচে আছ
যার জমিতে তোমার ঘর
সেই বাংলাদেশের কোনো বাড়ির কথা বললে
তুমি আতকে ওঠো

একটি নদীকে তুমি বয়ে যেতে দেখ
তাই বলে কি নদীর কোনো উৎসমুখ নেই
নদীর উৎসমুখ থাকে উজানে
স্রোতে ভেসে যাওয়া মানুষ জানতে পারে না

যে বটবৃক্ষের ছায়ায় তুমি বসে আছ
একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বীজের ভেতর থেকে
সে বেরিয়ে এসেছে
হয়তো পাখির পেটের ভেতর লুকিয়ে ছিল কিছুদিন
হয়তো পাখির বিষ্ঠা-পতনে এখানে উদ্গম হয়েছে
কিন্তু বীজের সত্য কিভাবে অস্বীকার করো

তুমি বলবে বাংলাদেশ তো আগেও ছিল
সত্য, তবে ভাষার আগে ভূখণ্ড ছিল
বীজ ও বৃক্ষের মতো, নদী ও পাহাড়ের মতো
ভাষা ও ভূখণ্ড অবিচ্ছেদ্য বেড়ে উঠেছে

কিন্তু তাদের ঘর ও গৃহস্থলি
তাদের মাটি ও মানুষ
ভাষা ও সংস্কৃতি
পাল, সেন, তুর্কি, সুলতান,
নবাব, ইংরেজ ও পাকদের অধীন ছিল
আর বাংলা না তাদের ভাষা, না তাদের
পিতামহ এখানে জন্মেছিলেন

আবার ইতিহাসের সত্য এমন নয় যে
একদিন তারা সব ছেড়েছুড়ে চলে গেল কিংবা
নটে গাছটি মোড়ানোর মতো গল্প শেষ
হাজার বছরের মিথস্ক্রিয়া, নানা রক্তের মিশ্রণ
তারপর চূড়ান্তভাবে দেশ ও জাতির জন্ম
হয়তো তখন সেটা একটা কুঁড়েঘর ছিল
হয়তো তখন সেটা একটা চারাগাছ ছিল
হয়তো তখন তারা একবেলা না খেয়ে থাকতো
আকবরের সাম্রাজ্য সুসংগঠিত হলেও
বাবর কি তাদের পিতা নয়

আর সেটি কবে এবং কোথা থেকে শুরু-
এ প্রশ্ন তো তুমি এড়িয়ে যেতে পার না
কারণ প্রত্যেকের একটি পিতা থাকে
অনেক পিতা মিলে এক বৃহত্তর পিতা
আর তিনিই তো জাতির পিতা

শোনো, উদাস মাঝি কী নামে আজ হাঁকে
মতিন রায়হান

ফুল-পাখিরা হল্লা করে দেখো
ভুল শেখো না ইতিহাসের কথা
কতোকিছু শেখার আছে শেখো ;
ছিলেন তিনি রূপকথার এক নায়ক
কণ্ঠে ছিল বজ্র সুরের গান
তাঁর নামটি বুকের মাঝে রেখো।

ছিলেন তিনি প্রাণবাজির এক গায়ক
চাইলে তাঁকে খুব নিকটেই পাবে
জীবন-নদীর বাঁকে
টুঙ্গিপাড়া কিংবা অজগাঁয়ে
শহরেও আছেন তিনি পালতোলা এক নায়ে
শোনো, উদাস মাঝি কী নামে আজ হাঁকে!

তোমার জন্য
রহীম শাহ

যতদিন এই দেশের মাটিতে
একটি মানুষ থাকবে
ততদিন ধরে বঙ্গবন্ধু—
তোমাকেই মনে রাখবে।

পাখিদের গানে, বাতাসের সুরে
তোমার নামটি আসে ঘুরে ঘুরে

সাগর-নদী ও ঝরনাধারায়
চিরদিন তুমি ভাসবে
দূর থেকে দূরে ঘুরে ঘুরে ঠিকই
ফিরে ফিরে তুমি আসবে।

এ দেশের মাঠ এ দেশের বন
তোমাকেই নিয়ে ভাবে সারাক্ষণ

নীল আকাশের তারা হয়ে তুমি
সবার হৃদয়ে ফুটবে,
তোমার নামেই মানুষ ঘুমাবে
তোমার নামেই উঠবে।

পিতা, একবার বলে যাও
মাহবুব আলম

পিতা, তুমিহীন এই বাংলা আজ ভুতুড়ে শ্মশান
বারবার মাটি ফুঁড়ে জন্ম নিচ্ছে
শত-শত অলৌকিক প্রেতাত্মা আচানক,
আজ যেখানেই চোখ রাখি
সেখানেই শুধু অন্ধকার,
মানুষের ধূসর মানচিত্র;

গভীর খাদে আটকে গেছে স্বদেশের চাকা
কোথাও কোন উদাস বিকেল নেই, স্নিগ্ধ ভোর নেই
রাত্রির সৌন্দর্