মুনশি মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ: আওয়ার ইসলামকামরায় যখন পা রাখি, চোখ যখন দলে দলে চেয়ে থাকা ডিমের ওপর পড়ে, অমনিই মনে হয় সত্যিই বড় জুলুম করে ফেলছি এদের ওপর৷ টানা একটি বছর ওদের সহোদর কতো ভাইবোন আমার পেটে গেছে, তার হিসেব নেই৷ নাহ, বাদ দিতে হবে এবার৷
রুটিন বদলানো দরকার৷ নতুন কিছু যোগ করা চাই৷ সকাল টু দুপুর, দুপুর টু বিকেল, সন্ধ্যে টু রাত এগোরোটা পেরোয় দর্সে দর্সে৷ নতুন কিছু ভাববার সময় মেলে না আর৷ দু'মিনিট ধীরস্থির বসবার ফুরসৎ পাই না কখনও৷ আজ না কাল, কাল না আজ এই করে হপ্তা দেড়েক কেটে যায়৷ খাবার রুটিনে কোনো বদল নেই আমার৷ আলু, ডিম কিংবা না খেয়ে থাকা৷ এর বাইরে কোনো নিয়ম আবিষ্কার করা হয় না আর৷
রান্নার ভয়ে মাঝেমধ্যে পালিয়ে বেড়াই৷ ক্লাস শেষে কামরায় আসি না৷ বন্ধুদের কেউ দেখা করতে চাইলে রুমের বাইরে দেখা করি৷ মসজিদে রশিদের বেসমেন্ট কিংবা হাউজপারের খবর দিই৷ ব্যস৷ রান্নারা আমায় ছুঁতেও পারে না৷ কিন্তু এভাবে আর কতোদিন! খেতে তো হবেই৷ বাঁচা তো লাগবেই৷
গত একটি বছরে রান্নায় বেশ অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার৷ চিকেন রান্না করতে শিখেছি কয়েক আইটেমের৷ আলু কেটে বানাতে জেনেছি হরেক তরকারি৷ স্বাদ আসুক আর না আসুক৷ আমার ভালো লাগে৷ অন্যের কাছে ভালো লাগুক আর না লাগুক, কপালে শিশির বিন্দুর মতো ঘাম একাকার করে রান্না করা আমার খাবার নিজের বড় পছন্দের৷
শুরুর দিকে ডিম ভাজিও করতে জানতাম না৷ এখন তো ডিমকেও রচনা করতে পারি কয়েকটি রূপে৷
এতোদিন পরে এখন নাকি আমার রান্না বেশ ভালো৷ পরিচিত বাঙালি আর হিন্দুস্তানিরা খুব প্রশংসা করে খেয়ে৷ বাঙালিরা না হয় আরেক দফা দাওয়াতের লোভে একটু বাড়িয়ে বলে৷ কিন্তু হিন্দুস্তানিরা কীসের লোভে বলে, আমার হেঁড়ে মাথায় ঢোকে না৷ ওদের তো আর দ্বিতীয় দফায় কামরায় আনা হয় না৷
তবে সত্যি বলতে এতোদিনে হাতের আঙুলের সব ক'টি পুড়েছে আমার বার কয়েক৷ এখনও রান্নায় আমার কষ্ট লাগে৷ পেঁয়াজ ছিঁলতে বসে চোখে জল আসে৷ কড়াইয়ের তেল ছিঁটে এসে হাত-পা জ্বলে৷
দেওবন্দের প্রথমদিকে মাকে খুব মনে পড়তো৷ রান্নার কথা খুব জিগ্গেস করা হতো ফোন করে করে৷ তার রান্না করা খাবার দেখে নাক সিঁটকাতাম বাড়ি গেলে৷ আর এখনও সেসব খাবারের কথা খুব মিস করি৷
মাকে ফোন করলে আগের মতোই এখনও জিগ্গেস করেন—‘খেয়েছিস কি?' কচুর ডগার মতো রান্না করা আমার নানান আইটেমের কথা তখন সহাস্য বদনে à