
আল্লামা মাহমূদুল হাসান। দেশের শীর্ষ আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদ, মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের আমির, গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদের খতিব, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে যাত্রাবাড়ি জামিয়ার প্রিন্সিপাল ও শাইখুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। লিখেছেন শতাধিক গ্রন্থ। এছাড়াও তার কর্মগত পরিচয় বহুবিধ। কখনোই সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ না করা এই বরেণ্য আলেম গভীর চিন্তাশীল, অত্যান্ত দূরদর্শী ও কোশলী হিসেবে সমধিক পরিচিত। এই সময়ের আলোচিত বিষয় ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন- রিদওয়ান হাসান।
-আমরা তো জানি যে, ইসলাম শান্তির ধর্ম কিন্তু ইসলামের নামে যে জঙ্গিবাদী তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে, এ ব্যাপারে আপনি কী বলেন?
আল্লামা মাহমুদুল হাসান : এক লোক আমাকে প্রশ্ন করেছিল, ইসলাম তো রক্তারক্তির ধর্ম, তা শান্তির ধর্ম হলো কিভাবে? আমি বললাম, একথার দলিল কী?প্রমাণ দেন। এরপর সে বলল, হযরত উমর, উসমান, আলী প্রত্যেকের যুগই তো রক্তাক্ত। এমনকি প্রত্যেকের মৃত্যুও হয়েছে রক্তারক্তির। তাহলে ইসলাম শান্তির ধর্ম হয় কি করে? আমি তাকে বললাম, আপনার প্রশ্ন ইসলামের ওপর নাকি মুসলমানের ওপর? আপনি পারলে ইসলামের একটি ত্রুটি দেখান। ইসলাম বলে আল্লাহ এক, দুই মানা যাবে না। ইসলাম বলে কোরআন মানতে। কোরআনের পথেই রয়েছে মানবতার চূড়ান্ত শান্তি। যে কোরআন একত্ববাদের কথা বলে। মানুষের জান-মাল, ইজ্জত-আবরুর শিওরিটি দেয়। আপনি সেই কোরআনের আয়াতে বা তার বিধানে কোনো ত্রুটি দেখান। একজন আলেম, হাফেজ, মুফতি কিংবা মুহাদ্দিসÑসে যদি নামায না পড়ে, সেটা কি ইসলামের দোষ? মুসলিম জনগোষ্ঠীর আচরণ আর ইসলাম কি এক জিনিস? কখনোই নয়। আমাদের দেশের অবস্থাও আজ এরূপ দাঁড়িয়েছে। কতিপয় লোক ইসলামকে অশান্তি ও সন্ত্রাসের ধর্ম বলে প্রমাণ করতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর আচার-ব্যবহারকে ইসলাম বলে চালিয়ে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ কারণে তারা মুসলমান ছেলেমেয়েদের হাতে তুলে দিচ্ছে সন্ত্রাসবাদ। মুসলমানকে সন্ত্রাস সাজানোর এ অপচেষ্টা আজকের নয়। বহুকাল থেকে চলে আসা এ ষড়যন্ত্রে তারা বারবার চপেটাঘাত খেয়েছে। তাই ঘাবড়ানোর কিছু নেই।
আমি মনে করি, মুসলমানের উচিত মানুষ যাই বলুক অন্তত মুসলমান যেন ইসলামকে সন্ত্রাসে