সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হেফাজতের শোক, ক্ষতিপূরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব ও কাতারের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ বিশ্বজয়ী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে সংবর্ধনা দিল ধর্ম মন্ত্রণালয় লক্ষ্মীপুরে ড্রাম ট্রাকচাপায় বৃদ্ধ ভ্যানচালকের মৃত্যু

উজবেকিস্তানের নিকৃষ্টতর স্বৈরশাসক করিমভ এর করুণ বিদায়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

epa01245908 Uzbek President Islam Karimov walks to his car during arrival ceremony in Moscow, 05 February 2008. Islam Karimov arrived in Moscow for an official visit. EPA/YURI KOCHETKOV

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন

সাবেক কমিউনিস্ট নেতা উজবেকিস্তানের নিকৃষ্টতর স্বৈরশাসক ইসলাম আবদুগানিয়েভিচ করিমভ ২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ মারা গেছেন ৭৮ বছর বয়সে। গণতন্ত্রের নামে ২৭ বছরের চরম একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটলো। রাজধানী তাশখন্দের বুক থেকে নেমে গেল কর্তৃত্ববাদের এক জগদ্দল পাথর।

উজবেকিস্তানের ৩ কোটি মানুষকে তিনি দমিয়ে রেখেছিলেন দু’যুগেরও বেশি সময়। কোন আন্দোলন-সংগ্রাম তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারেনি। একমাত্র আজরাইলই তাঁকে টেনে নামিয়ে মাটির তলে নিয়ে গেল। উইকিপেডিয়ার ভাষ্যানুযায়ী করিমভ ছিলেন অবৈধ সন্তান। তাঁর পিতা উজবেক আর মা ছিলেন তাজিক। স্বভাবতই তাঁর দেখভাল করার কেউ না থাকায় এতিমখানাতে তাঁর ঠাঁই মেলে। ওখানে তিনি বড় হতে থাকেন। ১৯৬০ সালে তাশখন্দ স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। কমিউনিস্ট পার্টির হাত ধরে তাঁর রাজনীতির শুরু। কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বের সুবাদে ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত উজবেকিস্তানের নেতা হন তিনি।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসা উজবেকিস্তানের তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন; তখন থেকে পুরো দেশ তাঁর কব্জায়। উজবেকিস্তানে সেটাই ছিল সর্বশেষ সত্যিকারের নির্বাচন। ক্ষমতায় আসার পর তিনি সমালোচক এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের জেলে পাঠাতে শুরু করেন। অনেককে নির্বাসনে পাঠানো হয়। ইসলামপন্থীদের সঙ্গে সম্পর্ক আছে সন্দেহে হাজার হাজার ধর্মপরায়ণ মুসলমানকে তিনি কারাবন্দী করেন বিনা বিচারে। ১৯৯১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ১০ হাজার ইসলামপন্থী মানুষকে কারারুদ্ধ করেন। বন্দীদের নির্যাতন চালানো ও গুম করে ফেলা ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। তুহির ইয়ালদুশ ও জুম নামাংগানী নামক ইসলামিক মুভমেন্ট অফ উজবেকিস্তানের ২ নেতাকে তাঁদের অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।

তিনি দাবি করেন উজবেকিস্তান তাদের মতো করে গণতন্ত্রের চর্চা করছে। ইসলাম করিমভের এই কথিত গণতন্ত্রে বাকস্বাধীনতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার কোন বালাই ছিল না। মসজিদ নির্মাণেও অনুমতি নিতে হত। সংবাদপত্রের উপর আরোপ করা হয় কড়া সেন্সরশিপ। জনগণের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার হরণ