
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
সাবেক কমিউনিস্ট নেতা উজবেকিস্তানের নিকৃষ্টতর স্বৈরশাসক ইসলাম আবদুগানিয়েভিচ করিমভ ২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ মারা গেছেন ৭৮ বছর বয়সে। গণতন্ত্রের নামে ২৭ বছরের চরম একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটলো। রাজধানী তাশখন্দের বুক থেকে নেমে গেল কর্তৃত্ববাদের এক জগদ্দল পাথর।
উজবেকিস্তানের ৩ কোটি মানুষকে তিনি দমিয়ে রেখেছিলেন দু’যুগেরও বেশি সময়। কোন আন্দোলন-সংগ্রাম তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারেনি। একমাত্র আজরাইলই তাঁকে টেনে নামিয়ে মাটির তলে নিয়ে গেল। উইকিপেডিয়ার ভাষ্যানুযায়ী করিমভ ছিলেন অবৈধ সন্তান। তাঁর পিতা উজবেক আর মা ছিলেন তাজিক। স্বভাবতই তাঁর দেখভাল করার কেউ না থাকায় এতিমখানাতে তাঁর ঠাঁই মেলে। ওখানে তিনি বড় হতে থাকেন। ১৯৬০ সালে তাশখন্দ স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। কমিউনিস্ট পার্টির হাত ধরে তাঁর রাজনীতির শুরু। কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বের সুবাদে ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত উজবেকিস্তানের নেতা হন তিনি।
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসা উজবেকিস্তানের তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন; তখন থেকে পুরো দেশ তাঁর কব্জায়। উজবেকিস্তানে সেটাই ছিল সর্বশেষ সত্যিকারের নির্বাচন। ক্ষমতায় আসার পর তিনি সমালোচক এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের জেলে পাঠাতে শুরু করেন। অনেককে নির্বাসনে পাঠানো হয়। ইসলামপন্থীদের সঙ্গে সম্পর্ক আছে সন্দেহে হাজার হাজার ধর্মপরায়ণ মুসলমানকে তিনি কারাবন্দী করেন বিনা বিচারে। ১৯৯১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ১০ হাজার ইসলামপন্থী মানুষকে কারারুদ্ধ করেন। বন্দীদের নির্যাতন চালানো ও গুম করে ফেলা ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। তুহির ইয়ালদুশ ও জুম নামাংগানী নামক ইসলামিক মুভমেন্ট অফ উজবেকিস্তানের ২ নেতাকে তাঁদের অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।
তিনি দাবি করেন উজবেকিস্তান তাদের মতো করে গণতন্ত্রের চর্চা করছে। ইসলাম করিমভের এই কথিত গণতন্ত্রে বাকস্বাধীনতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার কোন বালাই ছিল না। মসজিদ নির্মাণেও অনুমতি নিতে হত। সংবাদপত্রের উপর আরোপ করা হয় কড়া সেন্সরশিপ। জনগণের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার হরণ