মানুষ একটি আগাগোড়া গৃহপালিত প্রাণী। গৃহের বাইরে দীর্ঘ সময় কাটালেই তার অমানুষ হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। দুটি হাত ও দুটি পা থাকলেও মশা-মাছি তাড়ানোর লেজ নেই। মানুষকে তাই মশা-মাছি তাড়াতে মশারি, কয়েল, ওষুধসহ আরো বহু কিছু কিনতে হয়। মানুষ বড় অসহায়। আহা রে গো-বেচারা!
উপকারিতা
মানুষের উপকার অনেক। তারা আমাদের খাবারের জোগান দেয়। আমাদের মোটাতাজা করে। আমাদের নিয়ে রচনাও লেখে। এমনকি এবারের ঈদে আমাদের নিয়ে বিশেষ সংখ্যাও তারা বের করবে। যদিও সেটা হাসি-ঠাট্টার সংখ্যা, তবু আমরা তাতে কিছু মনে করি না।
মানুষের উপকারের কথা বলে শেষ করা যাবে না। এর সব কিছুই কাজে লাগে। মানুষের চুল পরচুলা কম্পানিগুলোর কাছে অনেক দামি বস্তু। এই চুল ঠিক রাখার জন্য মানুষ শ্যাম্পু লাগায়। ওই শ্যাম্পু আবার কিছু মানুষের আত্মবিশ্বাসের জোগান দেয়। তাদের আর কিছুই লাগে না।
মানুষের চামড়া একটি আশ্চর্যজনক বস্তু। কিছু মানুষের চামড়া খুব শক্ত। সাধারণ চড়-থাপ্পড় থেকে শুরু করে চরম অপমান, কোনো কিছুই তাতে লাগে না। কিছু মানুষের চামড়া জন্মগতভাবে অনেক শক্ত থাকে। দিনের পর দিন বিশেষ সাবান ও প্রসাধনী মেখে ওই চামড়া নরম করতে হয়। চামড়া নরম করা নিয়েও কিছু মানুষের টেনশন অনেক। সুতরাং সন্দেহ নাই, মানুষের চামড়ার অর্থনৈতিক মূল্য থাকুক না থাকুক, এই চামড়ার একটা অর্থনীতি ঠিকই আছে। ঠিক একইভাবে দাঁতেরও। এটাও অনেক মূল্যবান। মানুষই একমাত্র প্রাণী, যে দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বোঝে। দাঁতের যত্নে বাজারে পণ্যের তাই অভাব নাই।
মানুষের কঙ্কালও অনেক দামি। আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেটে কেনাবেচা হয়। মেডিক্যালের ছাত্রছাত্রীদের কাছে কঙ্কালের বড়ই কদর। এই কঙ্কালের জন্য মানুষ মানুষের কবরও চুরি করে। গরুর রক্ত কোনো কাজে না লাগলেও মানুষেরটা লাগে। মানুষের মলও খুব উপকারী। বিশেষ করে শহরের মানুষের। ড্রেন থেকে ওই মল মাটিতে মিশে তৈরি হয় জৈবসার। ওই সার মেশানো মাটি বিক্রি হয় শহরের নার্সারিগুলোতে। সবুজ-শ্যামলে তরতরিয়ে বেয়ে ওঠে গাছপালা আর ঘাস, আহা ঘাস! কচি কচি ঘাস! হাম্বা! হাম্বা!
মানুষ রপ্তানিও হয়। বৈধ-অবৈধ সব পথেই মানুষ মানুষকে রপ্তানি করে। মানুষের এত দাম! এতে অনেক টাকা আয় হয়। মানুষের শরীরেরও অনেক কিছু রপ্তানি হয়, যেমন—কিডনি, চোখ, বোনম্যারো। মোটকথা সামগ্রিক অর্থনীতিতে মানুষের ভূমিকা অপরিসীম।
বৈশিষ্ট্য
গরুর পাকস্থলীর চারটি কম্পার্টমেন্ট থাকলেও মানুষের একটি মাত্র পাকস্থ
ধ্রুব নীল