বিয়েতে মহরে ফাতেমি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা রয়েছে। বর্তমান সময়ে মহরে ফাতেমি’র নাম করে অনেক অইসলামি পরিবারও মেয়েকে ঠকায়। সংসারে ঝামেলা হলে এই অল্প মহরানার কারণে তালাক দিতেও তারা দ্বীধাবোধ করে না। অথচ দেখা যায় বিয়ে যারা মহরে ফাতেমিতে আগ্রহী এমন অনেক পরিবার নামাজ কালামের ধারও ধারেন না। এসব বিষয়ে সম্প্রতি জার্মান রেডিও ‘ডয়েচে ভেলে’ একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্মিলিত ম্যারেজ রেজিস্টার ফোরামের চেয়ারম্যান কাজী ছাবের আহম্মদ। তার সাক্ষাৎকারটি আওয়ার ইসলামের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
কাজী ছাবের আহম্মদ ‘সর্বনিম্ন দেনমোহর, অর্থাৎ মোহরানা ফাতেমী মানতে যেমন ইমান, আকিদা, লাহাম থাকা প্রয়োজন, সেটা অনেকেরই নেই৷ অনেক ক্ষেত্রেই মেয়েদের ঠকানোর জন্য এই মোহরানা ফাতেমি করা হয়ে থাকে৷’
বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্মিলিত ম্যারেজ রেজিস্টার ফোরামের চেয়ারম্যান কাজী ছাবের আহম্মদ (কাজী ছাব্বির) সাক্ষাৎকারে আরো বলেন, ‘আমাদের অনেক অভিজাত পরিবারের বিয়েতে আনুসঙ্গিক খরচ এতটাই বেশি হয় যে, ওখানে যে পরিমাণ অপচয় হয় তা দিয়েই মধ্যবিত্ত পরিবারের একাধিক বিয়ের সমস্ত খরচ মেটানো সম্ভব৷’
আমাদের দেশে অভিজাতদের বিয়েতে কেমন খরচ হয়?
কাজী ছাবের আহম্মদ: অভিজাত পরিবারের বিয়ে, মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারের বিয়ে – এই বিষয়ের সঙ্গে রেজিস্ট্রেশনের কোনো সম্পর্ক নেই৷ গ্রামের একেবারে দিনমজুরদের বিয়ের রেজিস্ট্রেশন যে রকম, একেবারে কোটিপতি, শিল্পপতি, মিনিস্টারদের বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের নিয়মকানুনটাও একই৷
আপনারা তো দেখেন, এই বিয়েগুলোতে কেমন অপচয় হয়?
অপচয় তো হয়ই৷ আমাদের দেশে কাজের চেয়ে অকাজের খরচ বেশি৷ অনেক বিয়েতে আনুসঙ্গিক খরচ এতটাই হয় যে শুধু অপচয়টা দিয়েই মধ্যবিত্ত পরিবারের একাধিক বিয়ের সমস্ত খরচ মেটানো সম্ভব৷ এতটাই ব্যয়বহুল হয় কিছু বিয়ে৷
এই অপচয়ের ব্যাপারে ইসলামে কী বলা হয়েছে?
ইসলামে অপচয়ের কোনো সুযোগ নেই৷ ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিবাহ হলো একটা শুভকাজ৷ উপযুক্ত ছেলে-মেয়ে, যারা অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ, শরিয়তের দৃষ্টিতে তাদেরই বিয়ে করা উচিত৷ ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহ শুভকাজ৷
