ড. এ বি এম হিজবুল্লাহ
গোড়ার কথা: ১৮৬৬ খ্রীষ্টাব্দ পূ্বর্কাল। দিল্লীতে শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র.) প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাই ছিল দ্বীনি শিক্ষাঙ্গনের প্রতীক। দরসে হাদীসের সিলসিলা এখান থেকেই পুরো ভারত বর্ষে ছড়িয়ে পড়ে। ১৮৬৬ খ্রীষ্টাদ্বে মাওলানা কাসিম নানুতবী (র.) -এর হাতে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারত উপমহাদেশে দারুল উলূম দেওবন্দ। কাওমী মাদরাসার প্রাতিষ্ঠানিক রূপের সূচনা হয় এখান থেকেই। ১৯০১ খ্রীষ্টাদ্ব। প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেরশের চট্টগ্রামের হাটাহাজারীতে দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম। এরপর আর পিছনের দিকে তাকাতে হয় নি। দারুল উলূম দেওবন্দকে কেন্দ্র করে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ নানা প্রান্তে ও দেশে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে একে একে কাওমী মাদরাসা। তখনও সব দেশেই সরকার ছিল। কিন্তু এ মাদরাসাগুলোর স্বীকৃতি ছিলনা তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে। তবে স্বীকৃতি ছিল কাওমের, জাতির ও আম মুসলিমের। আসমানী ওহীলদ্ধ এ শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উৎস হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে গারে হেরা বা জাবালে নূর। যেখান থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে কুরআন হাদীসের নূরানী আভা। ইংরেজ বিতাড়িত হয় ভারত বর্ষ থেকে। দেশ বিভক্ত হয় ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে। তখনও কাওমী মাদরাসার সরকারী স্বীকৃতির ব্যাপারে কেউ চিন্তাও করেন নি। দেশ বিভক্তির অনেক বছর পর সাম্প্রতিক সময়ে স্বীকৃতির প্রশ্নটি সামনে আসে। শুরু হয় পক্ষে বিপক্ষে যুক্তিতর্ক।
১. কাওমী মাদরাসার সনদ স্বীকৃতি প্রসঙ্গে দু’টি ধারা পাওয়া যায়।
এক. যারা স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই মনে করেন তাদের যুক্তি:
ক. কাওমী মাদরাসা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে এর মিল নেই। কাওমী মাদরাসার মূল কেন্দ্র দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মুসলিম উম্মাহকে লিল্লাহিয়্যাতের ভিত্তিতে দ্বীনী ইলমের সাথে সম্পৃক্ত করে আল্লাহওয়ালা তৈরীর প্রত্যয়ে। দারুল উলূম দেওবন্দকে ঘিরেই পাক-ভারত ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং হচ্ছে অগণিত কাওমী মাদরাসা ।
খ. আল্লাহর উপর সম্পূর্ণ তাওয়াক্কুল নির্ভর এ মাদরাসাগুলো। মাদরাসা পরিচালনায় জনগণের দান অনুদানই হচ্ছে এ মাদরাসাগুলোর আর্থিক উৎস ।
গ. কোন ধরনের সরকারী অনুদান এ মাদরাসাগুলো গ্রহণ করে না। এমন কি সরকার অনুদান দিতে চাইলেও বিনয়ের সাথে তা ফিরিয়ে দেয়া হয়। পূর্বে এবং সাম্প্রতিক কালেও ভারত সরকার দেওবন্দকে সরকাà¦