হাওলাদার জহিরুল ইসলাম ; দেওবন্দ থেকে

সারহিন্দ সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিলো নবীদের কবর জেয়ারত৷ সকাল সোয়া ছ'টায় বেরুলাম নবীদের কবর জেয়ারতের উদ্দেশ্যে৷ মুজাদ্দিদে আলফে সানি রহ.-এর দরবার থেকে ২২ কিলেমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে ‘বারাস’ নামক স্থানে, ন’জন নবীর কবর রয়েছে৷ আওয়ার ইসলামের অ্যাসাইনম্যান্টও ছিল, কবরগুলো নিয়ে যেন ভালো করে লিখি।
তিনশ' রুপিতে একটা সিএনজি রিজার্ভ নিলাম৷ ওখানে যাওয়ার সরাসরি গাড়ির রাস্তা নেই৷ সিএনজি মহা সড়ক ছেড়ে সরু রাস্তা ধরে এগিয়ে চললো৷ মাঝে মাঝে থামিয়ে রাস্তা ঠিক আছে কি না জেনে নিচ্ছিলো৷ বুঝলাম, সে এই পথে নতুন আসছে৷ প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা চলার পর আমরা পৌঁছলাম বারাস-এ৷ ড্রাইভারকে চা নাশতা খেতে বলে আমরা কবরগাহের দিকে পা বাড়ালাম৷ টিলার মতো উঁচু জায়গা৷ চারদিক বাউণ্ডারি ঘেরা৷ প্রধান ফটক পেরুলাম৷ মাদরাসার ছোট ছোট শিশু নজরে পড়লো৷ নিজেদের ক্লাসের প্রস্তুতি নিচ্ছে৷ কয়েকজন এগিয়ে এসে আমাদের সাথে মোসাফাহা করলো৷ এগোলাম আরো৷ পাথরে বাঁধাই করা লম্বা একটা সিঁড়ি উপরের দিকে উঠে গেছে৷ সিঁড়ির শেষ মাথার গেটে লেখা রয়েছে, ‘কুবুরে আম্বিয়া আলাইহিস সালাম।’
কবরগুলো কমপক্ষে ছয় হাজার বছর পুরনো৷ হজরত মুজাদ্দিদে আলফে সানি রহ.কে এলহামের মাধ্যমে জানানো হয়, সিরহিন্দের বারাস নামক জায়গায় নবীদের কবর রয়েছে, তুমি এগুলো সংরক্ষণ করো৷ তিনিই প্রথম এ কবরগুলো চিহ্নিত করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন৷ তিনি স্বীয় খাস খলিফাদের বলেছিলেন, নবীদের সাথে আমার স্বপ্নযোগে সাক্ষাত হয়েছে এবং আমার সুকুনে কলব হাসিল হয়েছে৷
রুহানি পরশে…
লম্বা লম্বা মোট নয়টি কবর৷ একটি বাদে সবগুলো প্রায় ৭ গজ লম্বা৷ একসাথে পাশাপাশি চারটি, একটু দূরে দু’টি, আর দু’টি আলাদা এবং একটি এক কোণে৷ তবে সব কবরই বাউণ্ডারির ভেতরে৷ ঘুরে ঘুরে প্রত্যকটা কবর পৃথকভাবে জেয়ারত করলাম৷ সাধ্যমতো সুরা কালাম পড়ে ইসালে সওয়াব করলাম৷ অন্তরে এক ধরনের প্রশান্তি অনুভব হলো৷ আমার পঙ্কিল হৃদয়ে কি নবীদের রুহানি পরশ লাভ করা সম্ভব? কয়েকজন যুবক (মডার্ণ মুসলিম!) কে কবরে পাশের ফুল গাছের নিচে বসে গল্প করতে দেখা গেলো৷ একজন তালিম দেয়ার সুরে, নিজের মতো করে, নবীদের বিভিন্ন কাহিনি শোনাচ্ছিলো বাকিদের৷ হাসি-ঠাট্টাও চলছে৷ বিষয়টা আমার ভালো লাগলো না৷ বেরিয়ে এলাম মাকবারা থেকে৷
বস্তবেই কি এগুলো নবীদের কবর?
মাকবারার পশ্চিম দিকে রয়েছে ‘মসজিদে আম্বিয়া৷’ মসজিদে আম্বিয়ার সামনে স্থনীয় এক মুরুব্বিকে পেলাম৷ à