হাওলাদার জহিরুল ইসলাম: ভারতীয় মুসলমানদের সবচে’ পুরনো রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন, ‘জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ৷’ যা ১৯১৯ সালে হজরত শায়খুল হিন্দ মাহমূদ হাসান দেওবন্দী রহ.-এর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়৷
শায়খুল আরব ওয়াল আজম হজরত সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানি রহ. ছিলেন তার একান্ত সহযোগী৷ সংগঠনটি ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা আন্দোলনে ঐতিহাসিক অবদান রাখে৷ স্বাধীনতার পর থেকে ভারতীয় মুসলমানদের যে কোনো সংকটে (ধর্মীয় বা সামাজিক) জমিয়ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে৷
প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ৯৯ বছর পর্যন্ত নেতৃত্বের পরিবর্তন আসলেও দলটির মাঝে কোনো বিভক্তি বা ফাটল সৃষ্টি হয়নি৷ কিন্তু ২০০৮ সালে এসে শত বছরের ঐক্যের বন্ধনে চির ধরে৷ তখনকার জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রেসিডেন্ট মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানি ও সেক্রেটারি জেনারেল, মাওলানা মাহমুদ আসআদ মাদানি’র চিন্তায় পার্থক্য দেখা দেয়৷
দু'জনের দর্শন দু'দিকে মোড় নিতে থাকে৷ শেষ পর্যন্ত জমিয়ত দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়৷ দেশের উলামা-তলাবাও দু'গ্রুপে বিভক্ত হয়৷ আম জনতা অনেকটা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে৷
কে হবেন দেশ গবেষক? অংশ নিন আপনিও
উভয় জমিয়তই ইসলাম, দেশ ও মানবতার জন্য কাজ করে চলে পাল্লা দিয়ে৷ ২০১৫ সালের রমজানে ভারতীয় মুসলমানগণ একটি খুশির সংবাদ শুনতে পান৷ ‘উভয় জমিয়ত নিজেদের চিন্তার পার্থক্য ভুলে গিয়ে দেশ ও জাতির জন্য এক সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছে৷’
ঈদের পর দিল্লির হেড অফিসে জমিয়তের (দু'দলেরই) নেতৃবৃন্দ গোল টেবিল বৈঠকে মিলিত হন৷ পরস্পরের মতপার্থক্যের জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন৷ তবে কর্ম-কৌশল নির্ধারণে কিছুটা মতপার্থক্য রয়ে যায়৷ ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে এভাবে-
১৷ দুই জমিয়তের নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ পদে বহাল থাকবেন৷ ২৷ সাধারণ কার্যক্রম চলবে এককভাবে৷ ৩৷ নিজ দলের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সবাই স্বাধীন থাকবে৷ ৪৷ দেশ-জাতির কল্যাণে সবাই এক সাথে কাজ করবে৷ ৫৷ জাতীয় কোনো ইস্যুতে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না৷ ৬৷ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোতে সবাই অংশ গ্রহণ করবে৷ ৭৷ সর্ব ক্ষেত্রে একে অন্যের সহযোগিতা করবে৷
মুদ্দা কথা হলো, বাহ্যত জমিয়ত দুই হলেও বাস্তবে এক৷ তাদের মাঝে কার্যত কোনোই বিরোধই অবশিষ্ট থাকবে না৷ এ তো ছিলো জমিয়তের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস৷ তবে আমরা যে বিষয়টি এখানে ফোকাস করতে à