সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হেফাজতের শোক, ক্ষতিপূরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব ও কাতারের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ বিশ্বজয়ী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে সংবর্ধনা দিল ধর্ম মন্ত্রণালয় লক্ষ্মীপুরে ড্রাম ট্রাকচাপায় বৃদ্ধ ভ্যানচালকের মৃত্যু

আরাকান: সেই সালতানাত, এই গণকবর (২য় পর্ব)

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

 মুসা আল হাফিজ
কবি ও কলামিস্ট

rohinga6(১ম পর্ব পড়তে ক্লিক করুন) ধীরে ধীরে স্থানীয়রা গ্রহণ করেছে ইসলাম। ত্রয়োদশ শতকে এসে গোটা অঞ্চলটাই হয়ে ওঠেছে মুসলিম জনপদ। ইবনে বতুতা যখন আরাকানে এলেন, তখন সেখানে সমৃদ্ধি আর সম্প্রীতির সুবাতাস বইছে। তিনি সেখানে বহু সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবার ও এলাকার সাক্ষাৎ পান। মুসলিমদের নৈকট্যে বৌদ্ধরা ছিলো সুখি ও নিরাপদ। ফলে অারাকানের ম্রাইক-উ রাজ বংশের শাসনামলে মুসলমানদের হাতে আসে অনেক। ক্ষমতাভ চন্দ্র ও সূর্য বংশের রাজা অসুথুর পুত্র নরমিলখলা যখন রাজা, তখন প্রভাবশালী নরমিখলা ক্ষমতা হারালে গৌড়ের সুলতান জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ তার সাহায্যে এগিয়ে আসেন। নরমিখলাকে অতিথি করে গৌড়ে রাখেন ২৪বছর। ৫০হাজার সৈন্য দিয়ে দুই দফায় তাকে সাহায্য করেন। এই সৈন্যরা যুদ্ধ করে নরমিখলাকে পুণরায় ক্ষমতায় বসায়। এতে মুগ্ধ হয়ে রাজা নিজের বৌদ্ধ নাম পরিহার করে গ্রহণ করেন মুসলিম নাম- সোলাইমান শাহ।

এর পরে আরো অনেক আরাকান রাজা বৌদ্ধ হয়েও মুসলমানি নাম গ্রহণ করেছেন। এখানে শতাব্দির পর শতাব্দি মুসলমানরা সমাজ-রাষ্ট্র ও সংস্কৃতিতে অনস্বীকার্য প্রভাব রেখে আসছেন। বিচার ব্যবস্থায় বারাবরই ছিলো মুসলমানদের কর্তৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, প্রধানকাজী ইত্যাদি পদ মুসলমানদের জন্য ছিলো নিশ্চিত। ১৪৩০ সালে আরাকানে প্রতিষ্ঠিত হয় মুসলিম রাজ্য। ২০০ বছরেরও বেশি সময় সেটা স্থায়ী ছিলো। ১৬৩১ থেকে ১৬৩৫ পর্যন্ত স্থায়ী এক দুর্ভিক্ষ আরাকান কে লণ্ডভণ্ড করে দেয়। পরে অবসান হয় মুসলিম শাসনের।

১৬৬০ সালে আরাকান রাজা থান্দ থু ধম্মা নিজ রাজ্যে অাশ্রিত সুজাকে হত্যা করে। সে ধীর ধীরে অত্যাচারী হয়ে ওঠে। তার শাসনামলে মুসলমানদের উপর দুর্ভোগ বয়ে যায়। এতদসত্ত্বেও সতের শতকের আটের দশক পর্যন্ত রোহিঙ্গা রাজ্যে মুসলিম বৌদ্ধ মিলে মিশে শান্তি পরিবার হিসেবে স্বাধীনতা ভোগ করছিলো। এর উপর আঘাত আসে মিয়ানমারের বৌদ্ধ রাজা বোদাওফার পক্ষ থেকে। ১৭৮৫ সালে তিনি আক্রমন করে রাজ্যটি দখল করে নেন। তার ত্রিশ হাজার সৈন্যের বিশাল বাহিনী দেশব্যাপী ধ্বংসের উৎসবে মেতে উঠে। মসজিদসমূহ ধ্বংস করে। কাঁচা-পাকা ঘরসমূহ মাটির সাথে মিশিয়ে পুড়িয় হত্যা করা হয় অসংখ্য রোহিঙ্গাকে। বোদাওফা বাহিনীর আক্রমণে মারা যায় অধিকাংà¦