শাহনূর ইসলাম শাহীন
আওয়ার ইসলাম
তখন আমি খুব ছোট। রাজনৈতিক প্যাঁচ গোজ অতশত বুঝতাম না। মাদরাসায় পড়তাম। সেই সুবাদে ছোট থেকেই টুপি পাঞ্জাবি পড়ার অভ্যাস ছিল নিয়মিত। গল্পে ইতিহাসে মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা পড়েছি। মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকার সম্বন্ধে জেনেছি। জেনেছি এটা, একাত্তরে পশ্চিম পাকিস্তানি জালিম শাসকদের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে বাংলার অপমার জনসাধারণ মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। অপরদিকে কিছু বিশ্বাসঘাতক পাকিস্তানিদের সহযোগী হয়ে দেশ বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল। পাকিস্তানিদের নানা অপকর্মের সহযোগী হয়ে ইতিহাসে তারা রাজাকার-আলবদর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
যখন একটু বড় হতে লাগলাম মানুষের সাথে মিশতে থাকলাম তখন লক্ষ্য করলাম গল্প আড্ডায় কিংবা রাজনৈতিক আলাপকালে বন্ধু-বাবান্ধব ও পরিচিতজনর পোষাকের কারণে আমাকে রাজাকার বলে টিপ্পনি কাটতো। তারা বুঝাতে চাইত হুজুর বা দাড়ি টুপি-পাঞ্জাবিওয়ালা মানেই রাজাকার। প্রতিবাদ করার মত কোনো তথ্য জানা না থাকায় কোনো প্রতিবাদ করতে পারতাম না। উস্তাদদের কাছ থেকে এ বিষয়ে কিছু শুনতে পেতাম না। বিভিন্ন সভা সেমিনার বিশেষ করে স্থানীয় ওয়াজ মাহফিল গুলোতেও অতিথি আলেমদের মুখেও কোনো প্রতিবাদী তথ্য পেতাম না।
স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা ফেরি করা কিছু স্বার্থান্বেষী নষ্ট মানুষের বিরুদ্ধে যখন আলেমরা কথা বলত তখন ভাবতাম দেশভাগ হওয়াটা মনে হয় প্রতিবেশী দেশের ষড়যন্ত্র ছিল। কেননা কিছু কিছু কথা পরোক্ষভাবে দেশের অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন করত। তখন এটা বুঝতাম না যে, বক্তা আসলে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অশ্রদ্ধা করে কথা বলেননি বরং মুক্তিযুদ্ধের নাম ভাঙ্গিয়ে কিছু ধর্ম বিদ্ধেষী লোকের অপকর্মের কথা বলেছেন। ফলশ্রুতিতে এক সময় ধারণা করতাম হয়তো তৎকালীন সময়ে মুসলিম দেশ হিসেবে আলেম সমাজ অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষেই ছিলেন।
তবে এটা মনে করতাম ইতিহাস বদলেছে, সময়ের প্রয়োজনে দেশ স্বাধীন হয়েছে সুতরাং স্বাধীনতাকে মেনে নিতে মহান মুক্তিযুদ্ধকে মেনে নিতে হবে। মনকে এই বলে প্রবদ দিতাম অন্তত আমি আমার স্বদেশের পক্ষে আমার স্বাধীনতার পক্ষেই থাকব। কিন্ত তাতে তৃপ্তি পেতাম না। যখনই বায়োজোষ্ঠদের নিকট পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার কথা শুনতাম, ইতিহাসে তাদের নির্মমতার কথা পড়তাম তখন মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগত। মুসলিম হোক আর অমুসলিম হোক ইসলাম কারো উপর জুলুম সহ্য করে না।
যুদ্ধের ময়দানে নারী ও শিশুর উপর আক্রমণ সমরà§