মাওলানা মুহাম্মাদ লুতফেরাব্বী
মিশর থেকে
শিল্পবিপ্লবের পর থেকে পৃথিবীজুড়েই প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রের ন্যায় জ্ঞান আহরণের উপায়-পদ্ধতিও সহজলভ্য হচ্ছে প্রতিদিন। জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাশাপাশি ইসলামি জ্ঞান-ভাণ্ডারেও প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। ওয়েবসাইট-ব্লগ, অনলাইন-অফলাইন লাইব্রেরির কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ছাড়াও পত্রিকা, রেডিও, টিভিতে চলছে ইসলাম চর্চা। এতে বহুবিধ ফায়দা অর্জিত হলেও একটি রোগ মহামারির আকার ধারণ করেছে, তা হলো ‘মুক্ত গবেষণা’।
তাহকিক বা গবেষণা একটি প্রয়োজনীয় বিষয় এবং তা শরিয়তে কাম্য। কিন্তু প্রশ্ন হলো, গবেষণা কে করবেন এবং এর নীতিমালা কী?
সাধারণভাবেই বুঝে আসে, কোন বিষয়ে গবেষণার অধিকার তারই আছে যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ ও পারদর্শী। তাছাড়া গবেষণা বলাই হয়, বিভিন্ন মতামত ও তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার মাধ্যমে কোন সিদ্ধেন্তে উপনীত হওয়া। তাই শাস্ত্রে অদক্ষ, অনভিজ্ঞ লোকেরা যদি এসব ক্ষেত্রে অনধিকার চর্চা করে তবে তা বিবেক ও শরীয়ত উভয় দৃষ্টিতে নিন্দনীয়।
দুনিয়ার সাধারণ জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমরা খুব ভালভাবেই মানি যে একজন ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে ‘সুক্ষ্ম’ জ্ঞান রাখেন না (তবে এই বিষয়ে তার সমান পারদর্শিতা থাকলে ভিন্ন কথা)। এমনকি ডাক্তারি বিদ্যার সব শাখায়ও যে তার সমান দক্ষতা থাকবে না সেটাও অনুমেয়। যেমন, একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ যে চর্মরোগ সম্বন্ধে ভাল জানবেন না এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া এক বিষয়ের অনেক ডাক্তারের মাঝেও যে দক্ষতা-অভিজ্ঞতাগত পার্থক্য রয়েছে তাও সবাই মানে। তাই কোন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ যদি হঠাৎ চর্মরোগের চিকিৎসায় নেমে পড়েন তাহলে ভুল সাজেশনের পাশাপাশি আইনি ঝামেলায়ও আটকে যাবেন। অনুরূপভাবে কেউ যদি শুধু ভক্তি-সুখ্যাতির বশে তার কাছে চিকিতসা নিতে যান তাহলেও লোকে তাকে পাগল বলবে।
দুনিয়াবি ক্ষেত্রে এই বাস্তবতা অনস্বীকার্য হলেও দ্বীন ও শরিয়তকে এমনই লাওয়ারিশ মনে করা হয়, এখানে যে কেউ নিজের মতামত ঠেসে দিতে উদগ্রীব। ‘আমি জানি না’ এই কথা এখানে বলতে কেউ প্রস্তুত নন।
বিশেষত বর্তমান সমাজে প্রয়োজনীয় আরবী ভাষা ও উসুলি জ্ঞানে অজ্ঞতা সত্ত্বেও বাংলা-ইংরেজি à