ব্যস্তময় ভাবনায় লেখক জন্ম দেয় বই। বইয়ের দেহকে সুন্দর করে তোলে প্রচ্ছদশিল্পী। বই ও লেখকের মাঝে প্রচ্ছদশিল্পীর অন্তর্ভুক্তিটা জরুরি এজন্যই। সারা বছর যেমনই হোক, প্রাণের বইমেলা কেড়ে নেয় প্রচ্ছদশিল্পির ঘুম। বইয়ের জন্য মানানসই পোশাক নির্মাণে হেলা করা শিল্পবিরোধি। তাই দিন-রাত এক করে প্রচ্ছদশিল্পিরা নির্মাণ করেন একেকটি বইয়ের পোশাক।
২০১৭ অমর একুশে বইমেলার বইয়ের কভার নির্মাণে ব্যস্ত তিন শিল্পীর সঙ্গে প্রচ্ছদশিল্প ও শিল্পীর নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন আওয়ার ইসলাম প্রতিবেদক হাসান আল মাহমুদ

সোহাগ পারভেজ। সমকালিন প্রচ্ছদশিল্পিদের অন্যতম পরিশ্রমী শিল্পী। প্রচ্ছদ জগতে প্রবেশ করেন ২০০৮ সালে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির 'শিশু' পত্রিকার মাধ্যমে তাঁর সেই যে যাত্রা শুরু, পেছনে ফিরে আর তাকাননি। এগিয়ে চলছেন দুর্দান্ত গতিতে। সৃষ্টি করে যাচ্ছেন একেকটি অমর শিল্প। এ পর্যন্ত তাঁর হাত দিয়ে ২০০০ প্রচ্ছদ অতিক্রম করেছে। আসুন শোনা যাক তার কথা।
এ কাজ কেন করেন নেশা না পেশার তাগিদে?
না, আসলে আমি মূলত ছবি আঁকি, দেশে বিদেশে প্রদর্শন করি, বলা যেতে পারে আমার কাজ ছবি আঁকা। মূলত ভালো লাগা থেকেই এই কাজ করি।
আঁকাআঁকিটার শুরু কবে?
৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে। প্রথমে নিজে নিজে বাচ্চাদের ছবি আঁকা শেখাতাম। পরবর্তীতে চারুকলায় ভর্তি হই।
প্রচ্ছদ নির্মাণ শিখেলন কিভাবে? কার কাছে? কোন গুরু আছে আপনার?
কোনো কিছুই গুরু ছাড়া হয় না। সব শিক্ষাই হচ্ছে গুরুমুখি শিক্ষা। তাই আমার প্রথম উৎসাহ এবং হাতেখড়ি শ্রদ্ধেয় হাশেম খান বলতে পারেন। তার কাছেই আমি প্রচ্ছদ শিল্পের প্রেরণা পাই।
এবারের মেলায় কয়টি বইয়ের প্রচ্ছদ করছেন?
প্রায় ১৫০ টির মতো।
প্রচ্ছদ শিল্প নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
আসলে প্রচ্ছদ নিয়ে ভাবনা কিছুই নেই। নতুন নতুন ভাবনা নিয়ে আরো কাজ করতে হবে।
কাজ করতে গিয়ে কোন সুখের কিংবা বিব্রতকর গল্প যেটা আপনার মনে পড়ে বেশি?
না, তেমন কোনো বিব্রতকর হয় না। তবে জানুয়ারি মাস এলে চাপ অনেক বেড়ে যায়। প্রকাশক ও লেখকদের বলবো, আগে থেকে সময় দিয়ে কাজ করালে কাজ পরিচ্ছন্ন হয়।
উল্লেখযোগ্য কোন কোন লেখকের বইয়ের কাভার করেছেন?
আমি বরেণ্য লেখকের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্ম লেখকদের বেশি প্রাধান্য দেই। বড়দের মধ্যে রয়েছেন, আলী ইমাম, আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, আনিসুল হক, সেলিনা হোসেন, শামসুজ্জামান খান ও সুজন বড়ুয়া প্রমুখ।