মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

সিঙ্গাপুরের একেকটি মসিজদ থেকে আয়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

yousuf sultan

ইউসুফ সুলতান

সিঙ্গাপুরের প্রায় ৫০% মসজিদে যার তৈরি সফটওয়্যার ব্যবহৃত হচ্ছে, সেই ভাইয়ের সাথে গতকাল মিটিং হলো। জানতে পারলাম, সিঙ্গাপুরের একেকটি মাঝারি থেকে বড় মানের মসজিদের ইনকাম সোর্স নিম্নরূপ:

১. কিন্ডারগার্টেন: মসজিদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সাধারণ শিক্ষার কিন্ডারগার্টেন, যেখানে ইসলামী বিষয়ও রয়েছে। এখানে প্রাপ্ত ফি থেকে মসজিদের আয় হয়।

২. সাধারণ ডোনেশন: যা বিভিন্ন সময় মানুষ দিয়ে থাকে। এখানে সাধারণ সাদাকাহ এবং যাকাত (বিশেষ খাতের জন্য) আলাদাভাবে গ্রহণ করা হয়।

৩. জুমার দিনের ডোনেশন: যা আমাদের দেশের মতো বাক্সে প্রদান করা হয়।

৪. মাদ্রাসা: এখানে হিফজ, মক্তব ইত্যাদি পরিচালিত হয়। আবার জন সাধারণের জন্য বিশেষ কোনো হাদীসের সনদ অর্জনের সুযোগ হিসেবে 'কুপন' বিক্রয় করা হয়। যেমন কেউ ১০০ ডলারে একটি কুপন ক্রয় করল, তাতে সে অমুক দিন অমুক শায়খের দরসে আধ ঘণ্টা বসে একটি হাদীসের সনদ লাভের সুযোগ পাবে। সনদ হচ্ছে হাদীসের অবিচ্ছিন্ন সূত্র, যা রাসূল স. পর্যন্ত চলে যায়।

৫. বিবাহ: মসজিদে অনেকে বিবাহ করতে চায়, এবং ওলীমাও এখানে সারতে চায়। তাই মসজিদ লাগোয়া কমিউনিটি সেন্টার, যেখানে ইসলামী পরিবেশে বিবাহোত্তর ওলীমা আয়োজন করা যায়।

৬. মার্চেন্ডাইজিং: মসজিদের নাম/ লোগো দিয়ে মগ, টি-শার্ট, জায়নামাজ, ছাতা ইত্যাদি বিক্রয়।

একেকটা মাঝারি থেকে বড় মসজিদের বার্ষিক আয় ১০০-১৫০ মিলিয়ন সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার (৫৫০-৮৫০ কোটি বাংলাদেশি টাকা) হয়ে যায়।

একজন সাধারণ ইমামের মাসিক বেতন ৫০০০ সিং ডলার (প্রায় তিন লক্ষ টাকা)। রমজানে তারাবীহর সময় ফিলিপিনো থেকে হাফেজ আনা হলে সাধারণত ২০,০০০ ডলারের (প্রায় ১১ লক্ষ টাকা) নিচে দেয়া হয় না, যা দিয়ে সে হাফেজের নিজ দেশে বছরের বাকী ১১ মাস চলে যায়।

ইমামদের এত বেতন দেয়ায় তাদের KPI বা Key Performance Indicator কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। নামাযের কাতারে ফাঁকা জায়গা থাকলেও সেটা সেই ইমামের জন্য নেগেটিভ পয়েন্ট বয়ে আনে।

তিনি জানালেন, আগে মাদ্রাসাগুলোতে সবাই তখনই সন্তানদের পড়তে দিতেন যখন নিজে পড়ালেখার খরচ চালাতে পারছেন না। কিন্তু এখন মাদ্রাসার সামনে বিএমডব্লিউ আর মার্সিডিজের ভিড়, অভিভাবকরা সন্তানদের স্বেচ্ছায় এখানে পড়াতে দিচ্ছেন, মাশা'আল্লাহ।

এত বিরাট অংকের টাকার স্বচ্ছতা রক্ষায় সেই ভাইয়ের ফার্মের তৈরি সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। তিনি আরো জানান, সিঙ্গাপুর সরকার অমুসলিম হওয়ায় প্রায়ই বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হয়। নতুবা এই 'মস্ক ইকোনমি' বা মসজিদ কেন্দ্রিক অর্থনীতির সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সবাই বেশ উপকৃত হত।

ভাই কথাগুলো বলছিলেন, আর চোখের সামনে আমাদের মাদ্রাসা-মসজিদের, ইমাম-খতিব ও উস্তাযদের দুর্দশার চিত্র ফুটে উঠছিল। আমাদের মাদ্রাসাগুলো সাধারণত কেবল ডোনেশন ভিত্তিক চলে থাকে। সাধারণ মানুষের মাঝে তাই একটা নেতিবাচক মানসিকতা কাজ করে। আধুনিক বিভিন্ন মডেল ব্যবহারে অতিরিক্ত আয়ের সোর্স করে নিলে সমাজে মাদ্রাসা-মসজিদ ও ইমাম-খতিব-আলেমদের চেহারাই পাল্টে যেত। আল্লাহ সহজ করুন। আমীন।

আরআর


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ