
-মুহাম্মাদ
`ছেলে আমার মস্ত মানুষ, মস্ত অফিসার
মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার ওপার।
নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামী দামী
সবচেয়ে কম দামী ছিলাম একমাত্র আমি।
ছেলের আমার আমার প্রতি অগাধ সম্ভ্রম
আমার ঠিকানা তা ইবৃদ্ধাশ্রম!'
নচিকেতার এই হৃদয়স্পর্শী গানটা যখনই শুনি তখন চোখের ভিতরে ভেসে আসে কোন এক করুণ, বেদনায় ভারাক্রান্ত, হাসির অন্তরালে এক কষ্টের প্রতিচ্ছবি যিনি হয়তো হাঁটছেন, খাওয়া-দাওয়া করছেন, গল্প করছেন, খেলাধুলা করছেন, বই পড়ছেন কিংবা প্রার্থনা করছেন অথবা চুপচাপ বসে আছেন কিন্তু সব কিছুই যেন এক অস্বাভাবিকতার বাস্তবায়ন। রক্তের বন্ধন আর পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্ন একটি সামাজিক চরিত্রের বিচিত্র মঞ্চায়ন।
আর এই অস্বাভাবিকতার বাস্তবায়ন ও মঞ্চায়ন দেখলেই ধরে নেয়া হয় যে এটি একটি ভিন্নধর্মী প্লাটফর্ম যেখানে কিছুদিন পরপর কোন একজনের একটি স্বাভাবিক সময়ের পর কিংবা একটি স্বাভাবিক অবস্থার পর অবস্থান করতে হয়। স্বভাবতই প্রশ্ন এসে দাঁড়ায়, কে আসে কিংবা কোন সময়ের পর বা কোন অবস্থার পর? খুব সহজেই হয়ত উত্তর দেয়া যাবে কিন্তু একবারেও কি ভেবেছি, যিনি আসেন তিনি হয়ত আমার, আপনার কিংবা আমাদের অতি আপনজন মা আর বাবা। কেউ হয়ত আসেন তার নিজস্ব কাজ থেকে অবসর নেয়ার পর, কেউ আসেন শারীরিকভাবে অক্ষমতার পর। কি নিষ্ঠুর, কি বর্বর আমাদের চেতনা, মানবিক মুল্যবোধ আর শ্রদ্ধাবোধ!
বয়স্ক কিংবা শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষের শেষ সময়ের একমাত্র আশ্রয় বৃদ্ধাশ্রম বর্তমান সময়ের এক সত্য কিন্ত তিক্ত বাস্তবতা। আর এই সত্য কিন্তু তিক্ত বাস্তবতাকে যারা উপলব্ধি করে সেই সকল অসহায় মানুষদের পাশে সন্তানেরমতো এসে দাঁড়িয়েছেন তাদের এই মানবিক অবদানকে কোন কিছুর সাথে তুলনা করলে এটি চরম লজ্জার হবে। নিজের সন্তানরা যেটি পারেননি সেটি সেই মহান মানুষগুলো করে দেখাচ্ছেন তাদের সর্বস্ব দিয়ে। মমতা, ভালবাসা আর দয়ার যে দৃষ্টান্ত প্রকাশ করছেন তা সত্যিকার অর্থেই সেই সকল হতভাগাদের গালে স্পষ্ট চপটঘাত। কিন্তু যারা পরিবারের আশ্রয় না পেয়ে বৃদ্ধাশ্রমে না গিয়ে একাকীত্ব জীবন যাপন করছেন তাদের কষ্টগুলো দেখবে কে- এই বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে আমরা আজ বড় অসহায়।
ঘৃণা, লজ্জা আর বিরক্তি থেকে যে অসহায় মানুষগুলো আজ তিক্ত বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে তাদের নিয়ে ভাবনার সময় এসেছে। আবহà