
কাজী আবুল কালাম সিদ্দীক
অতিথি লেখক, আওয়ার ইসলাম
নামকরণ :
তার্কি বা তুর্কি শব্দের অর্থ ল্যান্ড অব তুর্কস। ল্যাটিন টার্কিয়া (Turcia) এবং আরবি তার্কি-ই (Turkiyye) শব্দের উৎপত্তি। এটি একটি নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর নাম। এ নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী যে এলাকায় বসবাস করতো সে এলাকাটি তার্কি বা তুর্কি নামে পরিচিতি পায়। ‘(Turk) শব্দের অর্থ সৃষ্ট (created)। আল্লাহ তাআলা তুর্কি জাতিকে পরম যত্নে শ্রেষ্ঠ করে সৃষ্টি করেছেন। আর তারাও পরম যত্নে যে ভূখণ্ডটি সৃষ্টি করেছে সেটিই তার্কি বা তুরস্ক। দেশটির সরকারি নাম প্রজাতন্ত্রী তুরস্ক। [সূত্র : ড. মুহাম্মদ আমীন প্রণীত কী করে হলো দেশের নাম-ইউরোপ : পৃষ্ঠা ১৪৮]
ভৌগলিক অবস্থান :
তুরস্ক দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার আনাতোলিয়া উপদ্বীপের সম্পূর্ণ অংশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তের অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। ফলে ভৌগলিকভাবে দেশটি একই সাথে ইউরোপ ও এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা আনাতোলিয়াতেই অবস্থিত। আনাতোলীয় অংশটি তুরস্কের প্রায় ৯৭% আয়তন গঠন করেছে। এটি মূলত একটি পর্বতবেষ্টিত উচ্চ মালভূমি। আনাতোলিয়ার উপকূলীয় এলাকায় সমভূমি দেখতে পাওয়া যায়। তুরস্কের দক্ষিণ-ইউরোপীয় অংশটি ত্রাকিয়া নামে পরিচিত; এটি আয়তনে তুরস্কের মাত্র ৩% হলেও এখানে তুরস্কের ১০% জনগণ বাস করে। এখানেই তুরস্ক ও গোটা ইউরোপের সবচেয়ে জনবহুল শহর ইস্তানবুল অবস্থিত (জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৩ লক্ষ)। ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণ সাগরকে সংযুক্তকারী বসফরাস প্রণালী, মর্মর সাগর ও দার্দানেল প্রণালী ত্রাকিয়া ও আনাতোলিয়াকে পৃথক করেছে। [সূত্র : উইকিপিডিয়া]।
তুরস্ক মোটামুটি চতুর্ভুজাকৃতির। এর পশ্চিমে এজীয় সাগর ও গ্রিস; উত্তর-পূর্বে জর্জিয়া, আরমেনিয়া ও স্বায়ত্তশাসিত আজারবাইজানি প্রজাতন্ত্র নাখচিভান; পূর্বে ইরান, দক্ষিণে ইরাক, সিরিয়া ও ভূমধ্যসাগর। তুরস্কের ভূমিরূপ বিচিত্র। দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমে আছে উর্বর সমভূমি। পশ্চিমে আছে উঁচু, অনুর্বর মালভূমি। পূর্বে আছে সুউচ্চ পর্বতমালা। দেশের অভ্যন্তরের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হলেও ভূমধ্যসাগরের উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু মৃদু।
নিকট অতীতের আয়নায় :
উসমানি খেলাফতের পতনের পূর্বে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য ছিল খেলাফতের অধীনে। তাদের ইতিহাস ছিল সবচেয়ে সমৃদà§