এম. মাহমুদ খান
ফ্রান্স থেকে
‘কোথাও আমার হরিয়ে যাওয়ার নেই মানা!’
উরন্ত-দুরন্ত শৈশব আমার পুরোটাই কেটেছে জন্মভিটা ‘মশদগাঁওয়ে’। (পূর্বের ঢাকা জেলার লৌহজং থানা) বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলা। কালের আবর্তে সবকিছুর পরিবর্তন অনিবার্য। যেমনি শৈশব-কৈশোর-যৌবন থেকে বৃদ্ধ । সবই চলে মহান স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালার আদেশক্রমে।
শৈশবকাল যেমন ভুলবার নয়; তেমনি হাজারো ইচ্ছা হলেও সেই ছেলেবেলায় ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও কেনো যেনো প্রায়ই মনে পড়ে সোনালি শৈশবের সেইসব বর্ণালি দিনগুলোর কথা!
খুব ভোরে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনিতে ঘুম ভাঙা। ফজরের নামাজ মসজিদে আদায় করা। নামাজ শেষে মক্তবে পড়া। একটু সকাল হলে স্কুলে যাওয়া। ক্লাস শেষে দলবেঁধে বাড়ি ফেরা।
বিকেলে খেলার মাঠে হাডুডু-দারিয়াবাধা, ডাংগুলি, গোল্লাছুট, ফুটবল, হাতে তৈরি কাঠের ব্যাট আর টেনিস বলে ক্রিকেট খেলা, ব্যাডমিন্টন ইত্যাদি কোনো খেলা খেলতে বাদ যেতো না। একদিন খেলার মাঠে না যেতে পারার কী যে কষ্ট ছিল; তা বলে বুঝানো যাবে না।
বর্ষায় নৌকা অথবা কলা গাছের ভেলায় চড়া। ছুটির দিনে পুল অথবা গাছের ডাল থেকে পানিতে লাফিয়ে পড়া। বড়শি আর জাল দিয়ে মাছ ধরা।
আহা! সে এক ভিন্ন অনুভূতি! অন্যরকম ভালোলাগা!
বাসা থেকে কত-শত বাধা-নিষেধের পরও নাটাই আর গুড়ি নিয়ে মাঠে দৌড়ানোর স্মৃতি কী সহজেই ভোলা যায়!
বাল্যবেলার বাল্য-বন্ধুদের খুব মিস করি। খুব মনে পড়ে তাদের কথা। কখনোবা একাকীত্বে, শৈশব-ভাবনায় চোখ ভিজে নোনাজলে। নিজের অজান্তেই গুনগুন করি, ‘ও বন্ধু! তোদের মিস করছি ভীষণ।’
বাবাকে হারিয়েছি খুব ছোট বেলাতেই। মা এবং বড় ভাইদের কঠোর শাষন আর নিয়ম-নীতি কখনো কখনো শৈশবের দুরন্তপনার কাছে হার মানত বটে, এর জন্যে সাজাও পেতে হতো! পরক্ষণেই ভুলে যেতাম সাজা আর বাধা-নিষেধের কথা। কথায় বলে, ‘এটা নাকি বয়সের দোষ!’ ‘ওরে নবীন! ওরে আমার কাঁচা! ওরে সবুজ! ওরে আমার অবুঝ! আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা!’
মেঘে মেঘে বেলা হয়ে যাচ্ছে। আর এখন আমি প্রবাসে। যান্ত্রিক জীবনের খানিক অবসরে, ভাবনায়, চলে যাই সেই মধুমাখা শৈশবে। Â