জহির উদ্দিন বাবর
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
গত এক সপ্তাহ ধরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় কওমি মাদরাসার সরকারি স্বীকৃতির ঘোষণা। গণভবনে দেশের শীর্ষ আলেমদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘোষণা দেন। এরপর থেকে স্বীকৃতির প্রসঙ্গটি আলোচিত হচ্ছে সবখানে। যারা স্বীকৃতি পাচ্ছেন কিংবা এর সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত তারা এতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন; কেউ ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্তে সরকারি দলের বেশির ভাগ লোক সন্তুষ্ট হলেও কেউ কেউ অসন্তুষ্ট। আওয়ামী লীগকে জোরালোভাবে সমর্থন করেন এমন অনেকেই এর বিরোধিতা করছেন। আবার আলেম-ওলামার মিত্র হিসেবে পরিচিত বিএনপি পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে ভেতরে ভেতরে অনেক হতাশ হয়েছে।
ইসলাম নামধারী একটি রাজনৈতিক দল এই স্বীকৃতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। ওই দলটির নেতাকর্মীরা তাদের কদর্য চেহারার প্রকাশ ঘটাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিগত কয়েক দিনে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত বিষয় কওমি মাদরাসার সরকারি স্বীকৃতি ইস্যু।
রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন দল ও ব্যক্তির অবস্থান ভিন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে বস্তুনিষ্ঠতা যার প্রধান বুলি সেই মিডিয়ার ভূমিকা খুবই হতাশাজনক। এই ইস্যুতে দেশের গণমাধ্যমগুলো কওমি মাদরাসাগুলোর প্রতি রীতিমতো বিমাতাসুলভ আচরণ করছে। শেখ হাসিনার এই সাহসী সিদ্ধান্তকে যেখানে স্বাগত জানানো দরকার ছিল সেখানে মিডিয়া নানাভাবে কওমি মাদরাসাবিরোধী অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলো যেন কোনোভাবেই এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছে না। এই সিদ্ধান্তে তাদের যেন বড়ধরনের কোনো ক্ষতি হয়ে গেল। অথচ মিডিয়ার ভূমিকা কখনও এমনটা কাম্য নয়। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলাই মিডিয়ার কাজ। অধিকার বঞ্চিত মানুষের পক্ষে কথা বলা মিডিয়ার ধর্ম। অথচ কওমি স্বীকৃতি ইস্যুতে মিডিয়ার আচরণ সম্পূর্ণ বিপরীত।
ইসলামবৈরিতা পোষণ আর আলেম-ওলামার বিরোধিতা মিডিয়ার নতুন কোনো এজেন্ডা নয়। এগুলো মিডিয়ার কাটতি বাড়ায়। দেশের কয়েক হাজার কওমি মাদরাসা মূলধারায় চলে এলে মিডিয়ার কাটতিতে যথেষ্ট ঘাটতি পড়বে। তারা আর তখন ইà