সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
রিয়াদে হামলার নিন্দা, ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের উচ্চস্বরে আজানের অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, মাইক জব্দ উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু নিন্দা নয়, সচেতন মন গঠন জরুরি: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা মদিনায় ইফতার সরবরাহে ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের আবেদন আহ্বান ১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম নিকাব নিয়ে কটূক্তি: ঢাবির সেই শিক্ষিকাকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা আলোর পথের যাত্রী  সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি

আমাদের আলোর মিনার দুই মনীষী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

জহির উদ্দিন বাবর : নিকট অতীতে বাংলাদেশে প্রভাবশালী আলেমদের তালিকায় তাঁরা দুজনই শীর্ষে ছিলেন। কৃতিত্বপূর্ণ অবস্থানের দিক থেকে দুজনই ছিলেন ঝলমলে একটি জায়গায়। দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমাদৃত ছিলেন দুজনই। দুজনেরই ছিল নিজ নিজ রাজনৈতিক গণ্ডি ও বলয়। তবে সবকিছু ছাপিয়ে তারা হয়ে উঠেছিলেন দেশের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানের অভিভাবক।

ব্যক্তি থেকে প্রতিষ্ঠানের রূপ পেয়েছিলেন দুজনই। জাতির যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে আলেমরা তাকিয়ে থাকতেন তাঁদের দিকে। তাঁদের ব্যক্তিত্বের উচ্চতা ও ব্যাপ্তি এই পর্যায়ে ছিল যে, কেউ আর তাদেরকে কোনো দলীয় বা বলয়ের আয়তনে মাপতেন না।

সবার শিরোমনিতুল্য এই দুই মনীষী নানা আন্দোলন-সংগ্রামে একসঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন দীর্ঘকাল। কাকতালীয়ভাবে দুজনই একই তারিখে চলে গেছেন দুনিয়া থেকে। একজন ২০১২ সালে আরেকজন ২০১৬ সালে। ১৯ রমজান দুজনেরই ওফাত দিবস। বলছিলাম শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. ও আল্লামা মুহিউদ্দীন খান রহ.-এর কথা।

তাঁরা দুজনই আমাদের আলোর মিনার, চেতনার বাতিঘর। এই দুই মনীষীর কাছে কোনো না কোনোভাবে ঋণী আমরা সবাই। তাদের রেখে যাওয়া সম্পদ আমরা ভোগ করছি। তাদের মাড়ানো পথে আমরা নির্বিঘ্নে গমন করছি। আমরা চাইলেও তাদের সেই ঋণ কোনোদিন পূরণ করতে পারবো না। তবে ঋণ পূরণের চেষ্টা সবার মধ্যে থাকা উচিত। আল্লাহ যেন এই দুই মনীষীকে তাদের বিশাল কর্মের উপযুক্ত বদলা দেন সে দোয়া অব্যাহত রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব।

এক.
গত চার দশক ধরে বাংলাদেশে আলেম সমাজের সম্মিলিত এমন কোনো কর্মকাণ্ড নেই যেখানে শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ.-এর প্রত্যক্ষ বা পারোক্ষ ভূমিকা ছিল না। ছদর সাহেব ও হাফেজ্জী হুজুর রহ.-এর পরবর্তী সময়ে তিনিই ছিলেন আলেম সমাজের অবিসংবাদিত নেতা।

স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশের ইসলামী রাজনীতি ও আন্দোলন-সংগ্রামের এমন কোনো পর্যায় নেই যেখানে শায়খুল হাদিস রহ.-এর সরব উপস্থিতি ছিল না। জাতীয় ও ধর্মীয় ইস্যুতে সারা দেশের আলেম-ওলামা চাতকের মতো তাকিয়ে থাকতো শায়খুল হাদিসের নির্দেশনার প্রতি। ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ লংমার্চ থেকে শুরু করে ফতোয়াবিরোধী রায়ের প্রতিবাদে সর্বাত্মক জাগরণে শীর্ষ ভূমিকা পালন করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই মহান নেতা।

দীর্ঘ ৯৪ বছরের জীবনে তিনি হাদিসের মসনদ থেকে শুরু করে রাজনীতির মঞ্চ পর্যন্ত সবখানে দেশ ও জাতিকে দিয়েছেন অগণন। কর্মের ব্যাপ্তি ও অবদানের বিশালতায় শায়খুল হাদিস ছিলেন এদেশের আলেমদের মধ্যে অনন্য-অসাধারণ। বহুমুখী পরিচয়ের যোগসূত্রত