সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব ও কাতারের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ বিশ্বজয়ী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে সংবর্ধনা দিল ধর্ম মন্ত্রণালয় লক্ষ্মীপুরে ড্রাম ট্রাকচাপায় বৃদ্ধ ভ্যানচালকের মৃত্যু দেশে ফিরেছেন মালয়েশিয়ায় কুরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হাফেজ হিরা ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে ইসির বৈঠক ‘নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে 'জিরো টলারেন্স' কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই’ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক যা চাচ্ছে, নতুন সরকারও তাই চাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু আজ, প্রচারণার নির্দেশ আজও রিয়াদগামী ২ ফ্লাইট বাতিল, ৩ দিনে মোট ৯টি

রোহিঙ্গা শিবিরের হিরো ৫ : মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

হাওলাদার জহিরুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিবেদক, আওয়ার ইসলাম

পাহাড়ি ঢালু পথ ধরে এগোচ্ছিলাম৷ সামনের কয়েকটি পাহাড়ে নতুন শরণার্থীদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করবো৷ পেছন থেকে সফর সঙ্গীদের একজন থামিয়ে দিয়ে বললেন, হজরত উপরের দিকে তাকান৷ দেখলাম তিনজন বোরকাবৃত নারী পাহাড় থেকে নেমে আসছে৷ এমনিতেই নেমে আসছে মনে করে সামনে হাঁটা ধরলাম৷ এবার সফরসঙ্গী বিষয়টি খোলাসা করে বললেন, তারা আমাদের দেখেই নিচে নেমে আসছে মনে হয়৷ আমাদের একটু অপেক্ষা করা উচিত৷

একজনের কোলে ৩/৪ বছরের শিশু৷ আর দুজনকে যুবতী মনে হলো৷ তারা নতুন এসেছে৷ পথঘাট কিছুই চেনে না৷ ত্রাণ কোথায় দেয়া হচ্ছে, কীভাবে তা সংগ্রহ করতে হবে তাও জানে না৷ প্রায় সপ্তাহখানেক পায়ে হেঁটে আসায় তারা বেশ ক্লান্ত-বিধ্বস্ত৷ শিশুটির হাতে নগদ টাকা তুলে দিলাম৷ অমনি শিশুর মা হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন৷ জানালেন, শিশুর বাবাকে মায়ানমারের বর্বর সেনা সদস্যরা হত্যা করেছে৷

পাশের দুই যুবতীকেও কিছু অর্থ দিলাম৷ তাদের চোখ অশ্রুভেজা৷ মুখে ভয় ও হাতাশার ছাপ স্পষ্ট৷ এদের মধ্যে নিজের প্রিয়তমা স্ত্রী আর কলিজার টুকরো সন্তানদের মুখচ্ছবি দেখতে পেলাম৷ নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না৷ অঝোরে কান্না আসতে লাগলো এদের অসহায়ত্ব দেখে৷

উপরের কথাগুলো বলছিলেন মুফতি হাবিবুর রহমান মিছবাহ৷ গত ১৮তারিখে ‘মারকাযুত তাকওয়া ত্রাণ টিম’ নিয়ে টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে নগদ অর্থ বিতরণ ও অস্থায়ী মসজিদ মাদরাসা নির্মাণের উদ্দেশে গিয়েছিলেন৷

ত্রাণ বিতরণের অভিজ্ঞতার কথা জিজ্ঞেস করলে বলেন, অনেকেই ব্যক্তি উদ্যোগে, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ত্রাণ বিতরণে গিয়েছেন৷ কিন্তু রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো এলোমেলো ছড়ানো ছিটানো হওয়ায় ত্রাণ ঠিকমতো পৌঁছাতে পারছে না৷ ফলে কেউ বার বার ত্রাণ পেলেও বহু মানুষ একবারও পায় না৷ আবার কেউ মেইন রোডেই গাড়ি থেকে ত্রাণ বিতরণ শুরু করে দেয়৷

এখানের অধিকাংশই পুরাতন রোহিঙ্গা বা স্থানীয় সুবিধাবাদী লোকের ভিড় দেখা গেছে৷ আলহামদু লিল্লাহ! আমরা প্রথম একদিন কেবল প্রকৃত বা বেশি অসহায়দের খোঁজ করেছি৷ দুর্গম পথে যেখানে সাধারণত ত্রাণদাতারা যায় না প্রায় তিন কিলোমিটার পানি কাদা মাড়িয়ে ভেতরে গিয়ে নদগ অর্থ তুলে দিয়েছি৷ আমাদের প্রতিটি সহযোগিতাই যাতে উপযুক্ত ব্যক্তির হাতে পৌঁছে à