হাওলাদার জহিরুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিবেদক, আওয়ার ইসলাম
পাহাড়ি ঢালু পথ ধরে এগোচ্ছিলাম৷ সামনের কয়েকটি পাহাড়ে নতুন শরণার্থীদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করবো৷ পেছন থেকে সফর সঙ্গীদের একজন থামিয়ে দিয়ে বললেন, হজরত উপরের দিকে তাকান৷ দেখলাম তিনজন বোরকাবৃত নারী পাহাড় থেকে নেমে আসছে৷ এমনিতেই নেমে আসছে মনে করে সামনে হাঁটা ধরলাম৷ এবার সফরসঙ্গী বিষয়টি খোলাসা করে বললেন, তারা আমাদের দেখেই নিচে নেমে আসছে মনে হয়৷ আমাদের একটু অপেক্ষা করা উচিত৷
একজনের কোলে ৩/৪ বছরের শিশু৷ আর দুজনকে যুবতী মনে হলো৷ তারা নতুন এসেছে৷ পথঘাট কিছুই চেনে না৷ ত্রাণ কোথায় দেয়া হচ্ছে, কীভাবে তা সংগ্রহ করতে হবে তাও জানে না৷ প্রায় সপ্তাহখানেক পায়ে হেঁটে আসায় তারা বেশ ক্লান্ত-বিধ্বস্ত৷ শিশুটির হাতে নগদ টাকা তুলে দিলাম৷ অমনি শিশুর মা হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন৷ জানালেন, শিশুর বাবাকে মায়ানমারের বর্বর সেনা সদস্যরা হত্যা করেছে৷
পাশের দুই যুবতীকেও কিছু অর্থ দিলাম৷ তাদের চোখ অশ্রুভেজা৷ মুখে ভয় ও হাতাশার ছাপ স্পষ্ট৷ এদের মধ্যে নিজের প্রিয়তমা স্ত্রী আর কলিজার টুকরো সন্তানদের মুখচ্ছবি দেখতে পেলাম৷ নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না৷ অঝোরে কান্না আসতে লাগলো এদের অসহায়ত্ব দেখে৷
উপরের কথাগুলো বলছিলেন মুফতি হাবিবুর রহমান মিছবাহ৷ গত ১৮তারিখে ‘মারকাযুত তাকওয়া ত্রাণ টিম’ নিয়ে টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে নগদ অর্থ বিতরণ ও অস্থায়ী মসজিদ মাদরাসা নির্মাণের উদ্দেশে গিয়েছিলেন৷
ত্রাণ বিতরণের অভিজ্ঞতার কথা জিজ্ঞেস করলে বলেন, অনেকেই ব্যক্তি উদ্যোগে, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ত্রাণ বিতরণে গিয়েছেন৷ কিন্তু রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো এলোমেলো ছড়ানো ছিটানো হওয়ায় ত্রাণ ঠিকমতো পৌঁছাতে পারছে না৷ ফলে কেউ বার বার ত্রাণ পেলেও বহু মানুষ একবারও পায় না৷ আবার কেউ মেইন রোডেই গাড়ি থেকে ত্রাণ বিতরণ শুরু করে দেয়৷
এখানের অধিকাংশই পুরাতন রোহিঙ্গা বা স্থানীয় সুবিধাবাদী লোকের ভিড় দেখা গেছে৷ আলহামদু লিল্লাহ! আমরা প্রথম একদিন কেবল প্রকৃত বা বেশি অসহায়দের খোঁজ করেছি৷ দুর্গম পথে যেখানে সাধারণত ত্রাণদাতারা যায় না প্রায় তিন কিলোমিটার পানি কাদা মাড়িয়ে ভেতরে গিয়ে নদগ অর্থ তুলে দিয়েছি৷ আমাদের প্রতিটি সহযোগিতাই যাতে উপযুক্ত ব্যক্তির হাতে পৌঁছে à