মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

জাতিসংঘের ব্যর্থতায় রোহিঙ্গা সঙ্কট?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

বার্মার জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা রোহিঙ্গা মুসলমানদের অধিকারের বিষয়টি সরকারের সামনে আনার চেষ্টা আটকে দিতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ এসেছে বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।

এই বিশ্ব সংস্থার সাবেক কয়েকজন কর্মী এবং ত্রাণকর্মীদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, মানবাধিকার কর্মীরা যাতে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে যেতে না পারেন, সেই চেষ্টা করেছিলেন বার্মার জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক।

তবে বার্মার জাতিসংঘ দপ্তর বিবিসির প্রতিবেদনে আসা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আরাকানে সাম্প্রতিক সেনা অভিযানের পর গত এক মাসে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। চলমান এই সঙ্কটে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ এখন আছে সামনের কাতারে।

জাতিসংঘ সংস্থাগুলো বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে জোর ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছে। এ সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা কড়া ভাষায় বার্মার কর্তৃপক্ষের ভূমিকার সমালোচনা করছেন; আরাকানে সেনা অভিযানকে তারা বর্ণনা করছেন জাতিগত নির্মূল অভিযান হিসেবে।

কিন্তু বিবিসি বলছে, চার বছর আগে রোহিঙ্গা সঙ্কট যখন আজকের অবস্থায় পৌঁছেনি, বার্মার জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রেনেটা লক-ডেসালিয়েনের (২০০৭-০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তিনি বাংলাদেশে একই দায়িত্বে ছিলেন) ভূমিকা তখন ছিল অন্যরকম।

জাতিসংঘের ভেতরের সূত্র এবং বিভিন্ন সাহায্যকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের বরাত দিয়ে বিবিসি লিখেছে-

>> রেনেটা লক-ডেসালিয়েন রোহিঙ্গাদের এলাকায় মানবাধিকার কর্মীদের যাতায়াত আটকাতে চেয়েছিলেন।

>> প্রকাশ্যে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আলোচনা বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন।

>> রাখাইনে জাতিগত নির্মূল অভিযানের ক্ষেত্র প্রস্তুত হওয়ার বিষয়ে যিনি সতর্ক করার চেষ্টা করেছেন, তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরাকান পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে তা তখনই আঁচ করতে পেরেছিলেন বার্মার জাতিসংঘের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসা ক্যারোলাইন ভ্যান্ডেনাবিলে। ১৯৯৩-৯৪ সালে রুয়ান্ডায় গণহত্যার পরপরই সেখানে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার হয়েছিল। ২০১৩ সালে বার্মায় গিয়ে আরাকানেও একই ধরনের উদ্বেগজনক লক্ষণ তিনি দেখতে পান।

ভ্যান্ডেনাবিলে বিবিসিকে বলেছেন, বার্মার দায়িত্বে যোগ দেওয়ার পরপরই একদল বিশেষজ্ঞের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের এক বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন তিনি, যেখানে রাখাইন ও রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ আসে।

“বার্মিজ একজন ওই বৈঠকে বলেন, রোহিঙ্গাদের সবাইকে কুকুরের মত মেরে ফেলা উচিৎ। মানুষের এরকম অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গি হল একটা লক্ষণ। এর মানে হল, সমাজ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে এসব স্বাভাবিক হিসেবেই গণ্য হতে পারে।”

২০১৩ থেকে ২০১৫ সালে বার্মার জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের অফিসে প্রধান কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন ক্যারোলাইন ভ্যান্ডেনাবিলে। আর ২০১৪ সাল থেকে সেখানে আবাসিক সমন্বয়কের দায়িত্বে আছেন রেনেটা লক-ডেসালিয়েন।

আরাকান টিভি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ