সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম নিকাব নিয়ে কটূক্তি: ঢাবির সেই শিক্ষিকাকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা আলোর পথের যাত্রী  সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হেফাজতের শোক, ক্ষতিপূরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত

প্রিয় সুচি, চোখের জলে লিখে গেলাম তোমার ভবিষ্যৎ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সুচির কাছে এক রোহিঙ্গার খোলা চিঠি

প্রিয় সুচি!
যে বছর আপনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন, আমার জন্ম সে বছরেই। আপনার এই নোবেল প্রাপ্তি আমাদের মিয়ানমারের মানুষের জন্য ছিল এক বিশাল গর্ব এবং আনন্দের ব্যাপার। রাখাইনের মংডু এলাকায় আমরা থাকি। সেই পুরো এলাকা আপনার নোবেল প্রাপ্তির উচ্ছ্বাসে আনন্দে ভেসে যায়।

যেন এই বিজয়ের আনন্দ শুধু আপনার একার নয়, এ বিজয় সমগ্র মিয়ানমারের, যার শতবর্ষের ঐতিহ্যের অংশ আমরা রোহিঙ্গারাও।  সুচি, সম্ভবত আপনার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাবার পরে আমরা রোহিঙ্গারা প্রথমবারের মতো অনুভব করতে পারি যে, আমরাও এ দেশের একটা অংশ।

যে দেশের মাটিতে আপনার মতো শান্তিকামী বিশাল হৃদয়ের মানুষের জন্ম, সেই দেশের মাটিতে জন্ম নেয়ার পরম সৌভাগ্যে ক্ষণে ক্ষণে আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠছিল আমাদের হৃদয়। কয়েক দশক ধরে সামরিক জান্তার হাতে অত্যাচারের শিকার হতে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য আপনার নোবেল প্রাপ্তি বয়ে এনেছিল একটি আশার আলোকবর্তিকা।

আমরা, রোহিঙ্গারা আশায় বুক বাঁধলাম যে, এবার হয়তো আমাদের দুর্ভাগ্যের অবসান হবে। আমি ছোটবেলা থেকেই দাদার মুখে আপনার গুণগান শুনেছি।

আপনার রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির প্রতি আমার দাদা এতটা শ্রদ্ধাশীল ছিলেন যে, এ দলের নেতারা কখনো আমাদের এলাকায় কাজে এলে তাদের আপ্যায়নে নিজের গোয়ালের সবচেয়ে বড় ভেড়া এবং গরুটি পর্যন্ত জবাই করতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না।

আমার দাদা এবং বাবা আপনার প্রতি এতটাই শ্রদ্ধাশীল ছিলেন যে, তারা চাইতেন আমি যেন বড় হয়ে আপনার পদাঙ্ক অনুসরণ করি। আমার মা নিজেও আপনার বক্তব্য এবং জীবনবোধের একনিষ্ঠ অনুসারী। তিনি চাইতেন আমার ভেতরে আপনার লালিত আদর্শের বীজ বুনে দিতে।

২০১০ সালের এক আনন্দঘন দিনে আপনি যখন গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত হলেন, আমার পুরো পরিবার সহ সমস্ত রাখাইন রাজ্য উল্লাসে ফেটে পড়েছিল। অথচ, সাত বছর পর, আমরা- সেই রোহিঙ্গারা আজও নৃশংসতা এবং জাতিগত নিধনের বর্বরতার মুখে দাঁড়িয়ে আছি। এবং এবার স্বয়ং আপনার ইন্ধনে!

২০১৫ সালে সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ের পর আপনি আপনার দল থেকে মুসলিম প্রতনিধিদের সরিয়ে দিলেন।

যেটি ছিল আপনার রাজনৈতিক ভীরুতা ও অনাচারের প্রথম পদক্ষেপ। তার কয়েক মাস পরেই উত্তর রাখাইনে আপনার প্রশাসন রাখাইন নিধন অভিযান শুরু করলো। এ সময়ে হত্যা করা হলো হাজারো রোহিঙ্গাকে।

পুড়িয়ে দেয়া হলো পনের হাজার ঘরবাড়ি। হাজারো মহিলার ওপর চালানো হলো গণসম্ভ্রমহানী। এমনকি