মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দিন শেষ হয়ে এলে  এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ২৫–২৯ অক্টোবর টঙ্গীতে ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে সহোদরসহ ৪ শিশুর মৃত্যু   সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ রিয়াদে হামলার নিন্দা, ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের উচ্চস্বরে আজানের অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, মাইক জব্দ উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু নিন্দা নয়, সচেতন মন গঠন জরুরি: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা মদিনায় ইফতার সরবরাহে ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের আবেদন আহ্বান

‘স্বপ্নের বিদ্যালয়’ চলছে সুবিধাবঞ্চিতের স্বপ্ন নিয়ে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

কামরুল ইসলাম রুবেল
হবিগঞ্জ থেকে

পড়ন্ত বিকেল ঘড়িতে সাড়ে চারটা। শিক্ষা-সংস্কৃতি বিদ্যাপিঠের পথিকৃৎ হবিগঞ্জের নিমতলা কালেক্টর প্রাঙ্গনের কড়ই গাছের নিছে ৮/৯ জন শিশুকে পাঠদান করছে একজন কিশোর। গাছে ঝুলানো হোয়াইট বোর্ডে মার্কার দিয়ে সংখ্যা লিখছে এক শিক্ষার্থী।

এ যেন সেই টোল প্রথার মতো, শিক্ষাগুরুরা ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করছেন।

হোয়াইট বোর্ডের উপড়ে লেখা ‘স্বপ্নের বিদ্যালয়’। বিদ্যালয়ের ছাত্রদের সবার বয়স হবে ৬/১২। পোশাক পরিচ্ছেদ দেখে বুঝা যায় তারা সাধারণ ছাত্র না, বিশেষ ছাত্র।

তারা সারাদিন বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করে বিকেলে স্বপ্নের বিদ্যালয়ে আসে পড়তে। ১ম বা ২য় শ্রেনী নয়। একটি শিশু তার শিক্ষা জীবনের শুরুতে পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে শিক্ষা সর্ম্পকিত যে প্রাথমিক ধারণা বা জ্ঞান অর্জন (বাংলা, ইংরেজি বর্ণমালা, কবিতা, সংখ্যা গণনা) করে সেই প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং নৈতিক বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে দেয়া হচ্ছে স্বপ্নের বিদ্যালয়ে।

এই বিদ্যালয়ের প্রায় সব শিশুই শহরের গরুর বাজার এলাকায় খোয়াই নদীর পাড়ের বস্তিতে বসবাস করে।
প্রায় ১১ বছর বয়সী দেওয়ান মিয়া। বাবা জজ মিয়া রিক্সা চালান। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিও হয়েছিল কিন্তু বেশি দিন পড়তে পারেনি স্কুলে।

৭ জনের সংসার চালাতে গিয়ে মা দয়া বেগম অনেক ঋণ করে ফেলেন। যার জন্য স্কুল ছেড়ে বোতলের বস্তা কাঁধে নিয়েছে দেওয়ান মিয়া। ‘সারা দিন বোতল থুকাইয়া(কুড়িয়ে) বেছলে(বিক্রি) শ’খানেক টেকা (টাকা) পাই। এই টেকাটা ঘরে দিলে আম্মার সাহায্য হয়। বাজার হাট করতে পারুইন।’

রিজন মিয়ার বাবা তাদের ছেড়ে চলে গেছে অনেক বছর আগে। মা পারুল বেগম তার দুই ভাই ও দুই বোনকে নিয়ে পরিবার চালাচ্ছেন অনেক কষ্ট করে। নদীর পাড়ে ভ্রাম্যমাণ একটি টং দোকানে চা, পান বিক্রি করেন তার মা। ‘ছয় জনের সংসারে আম্মার একলা রুজিতে (আয়ে) চলে না। তাই আমি ও বোতল, কাগজ, থুকাইয়া (কুড়িয়ে) টাকা দেই আম্মারে।’

স্বপ্নের বিদ্যালয়ে নিয়ে রিজন মিয়া বলে, ‘ভাইয়েরা খুব আদর করে পড়ান, নাস্তা খাওয়ান, টমটম ভাড়াও দিয়ে দেন, আমাদের বই-খাতা কিনতে হচ্ছে না। এ স্কুল থেকেই দেওয়া হচ্ছে। আমরা বড় হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে লেখাপড়া করছি। সারা দিন শহরে বোতল কুড়িয়ে ক্লান্ত হয়ে যাই। তারপর ও বিকাল হলেই তাদের ভালবাসার টানে পড়তে চলে আসি।’

প্রায় একই রকম গল্প মারুফ মিয়া, সুফিয়ান মির্জা ও সুলেমান মির্জার। মনের আনন্দে শিখার আগ্রহ নিয়ে স্বপ্নের বিদ্যালয়ে আসে তারা।

‘স্বপ্নà§