সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
টঙ্গীতে ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে সহোদরসহ ৪ শিশুর মৃত্যু   সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ রিয়াদে হামলার নিন্দা, ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের উচ্চস্বরে আজানের অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, মাইক জব্দ উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু নিন্দা নয়, সচেতন মন গঠন জরুরি: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা মদিনায় ইফতার সরবরাহে ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের আবেদন আহ্বান ১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম নিকাব নিয়ে কটূক্তি: ঢাবির সেই শিক্ষিকাকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা

ত্রিভুবনে প্রিয় মোহাম্মদ সা.

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

জহির উদ্দিন বাবর
আলেম ও সাংবাদিক

প্রায় দেড় হাজার বছর আগের কথা। আরবের ধূসর মরুর বুকে রবিউল আউয়ালের এক প্রভাতে উদয় হলো আলোকদীপ্ত এক সূর্যের। যার আলোকরশ্মি বিদীর্ণ করে দিলো ভ্রষ্টতা ও মূর্খতার সব পর্দা। বছরের পর বছর ধরে যে আরবভূমি তথা বিশ্বমানবতা পিপাসায় হাহাকার করছিল, এর ওপর বয়ে গেল রহমতের বারি বর্ষণ।

সততা, নিষ্ঠা, ভ্রাতৃত্ব, হৃদ্যতা, ন্যায় ও সাম্য থেকে বঞ্চিত মানবতার রুক্ষ-ভূমি পূর্ণ হয়ে উঠলো শ্যামল শোভায়। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির জন্মের সেই শুভমুহূর্তে আনন্দের বন্যা বয়ে যায় সবখানে। সে খুশির বারতা মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যায় দিক-দিগন্তে।

ত্রিভুবনের প্রিয় হজরত মোহাম্মদ সা.-এর জন্মের শুভ মুহূর্তের আলোড়িত সব ঘটনাই বিশ্বমানবতার গগনে প্রদীপ্ত সূর্য উদয়ের পূর্বাভাস ছিল। তাঁর জন্মের কারণে অন্ধকারের কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যাওয়া বসুন্ধরা ফিরে পেয়েছিল নতুন প্রাণের স্পন্দন। মানবতা পেয়েছিল জন্মের সার্থকতা।

তিনি ছিলেন রহমাতুলিল আলামীন তথা সারাবিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ। রাব্বুল আলামীনের ঘোষণা, ‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত হিসেবে পাঠিয়েছি।’ [সুরা আম্বিয়া: ১০৭]

প্রিয়নবী হজরত মোহাম্মদের সা. করুণার কারণেই প্রাণীকুল তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রতি দুর্বল। তাঁর নাম শুনলে ভক্তিতে গদগদ করে। কালের বিরামহীন চক্রে দেড় হাজার বছর লীন হয়ে গেলেও আজও তাঁর অবদানের কথা জগদ্বাসীর কাছে ভাস্বর হয়ে আছে।

এখনও দুনিয়ার প্রতিটি স্থানে প্রতি মুহূর্তে শ্রদ্ধাভরে উচ্চারিত হচ্ছে তাঁর বরকতময় নাম। নাতিদীর্ঘ কর্মময় জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ইতিহাসের পাতায় রক্ষিত আছে সযতনে। তাঁর সর্বপ্লাবী ব্যক্তিত্বের কাছে দুনিয়ার তাবৎ কৃতিত্ব ও যোগ্যতা ধূসরিত। ঘোর শত্রুর কাছেও তিনি কীর্তিমান, অদ্বিতীয় এক মহাপুরুষ। চরিত্রে তাঁর নেই বিন্দু পরিমাণ কালিমার আঁচড়। চারিত্রিক সার্টিফিকেটে স্বয়ং রাব্বুল আলামীন তাঁকে সর্বযুগের রেকর্ডসংখ্যক মার্ক দিয়েছেন।

কৃতিত্ব, অবদান ও মানবিক যোগ্যতার আকর্ষণীয় দিকগুলোর সম্মিলনের কারণে প্রতিটি মুসলমানের হৃদয়ে প্রিয়নবীর সা. প্রতি সহজাত টান রয়েছে। সর্বোপরি মহব্বতে রাসুল তথা নবীজীকে ভালোবাসার পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন ঈমানের অনিবার্য দাবি। সে দাবি পূরণ করতে মুসলমান হিসেবে রবিউল আউয়াল এলে আমরা সবাই কমবেশি আন্দোলিত হই।

প্রিয়নবীর সা. প্রতি আমাদের ব্যাকুল অন্তরের আকুল অনুভূতির প্রকাশ ঘটে। মহব্বতে রাসুলের সা. নতুন হাওয়া বইতে থাকে চারদিকেà¥