সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
টঙ্গীতে ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে সহোদরসহ ৪ শিশুর মৃত্যু   সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ রিয়াদে হামলার নিন্দা, ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের উচ্চস্বরে আজানের অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, মাইক জব্দ উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু নিন্দা নয়, সচেতন মন গঠন জরুরি: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা মদিনায় ইফতার সরবরাহে ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের আবেদন আহ্বান ১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম নিকাব নিয়ে কটূক্তি: ঢাবির সেই শিক্ষিকাকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা

বইমেলায় আহমাদ মুস্তাফার “দাহকালের গল্প”

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

যিয়াদ বিন সাঈদ: আহমাদ মুস্তফা। তড়তড়ে ও সাবলীল ভঙ্গিতে গদ্যের রিনিঝিনি অভিনব সৃষ্টি করা এক লেখকের নাম। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮ তে তারই হাত ধরে আসছে গল্প সংকলন ‘দাহকালের গল্প’।

১৪৪ পৃষ্ঠার এ গ্রন্থটিতে রয়েছে প্রায় ত্রিশটি গল্প। প্রতিটি গল্পেই রয়েছে ভিন্ন আমেজ। ভিন্ন ভিন্ন সুর। অন্ধকার যাপিত এ দুর্দশাগ্রস্ত সময়ে মানুষ যখন প্রচণ্ড ঢেউয়ের হিংস্রতায় কালক্ষেপণ করছে, ঠিক তখনই গল্পের সুরে সুরে চিরসত্য এবং বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে দিতেই এলেন যেন এ আহমাদ মুস্তফা।

বইটি হাতে নেবার পরই কাজী যুবাইর মাহমুদের নান্দনিক প্রচ্ছদে পাঠকের হৃদয় পুলক অনুভব করবে। ভেতরের নক্ষত্রগুলো কীভাবে জ্বলজ্বল করছে, তা দেখতে ইচ্ছে করবে। মনে চাইবে, একটু ছুঁয়ে দেখতে। এরপর পৃষ্ঠা ওল্টালেই আসতে থাকবে ভিন্ন ভিন্ন প্লটে গল্পের স্রোতধারা। একেকটি বইছে একেকদিকে। অকূল দরিয়ায়।

লেখক আহমাদ মুস্তফা ‘দাহকালের গল্প’ লিখেছেন নিশ্চিত পাঠকের মনকে বিচূর্ণ করে দিতে। ভেঙে দিতে হৃদয়ের সমস্থ অস্থিকোষ। আমি যখন ‘দাহকালের গল্প’ পড়ছিলাম, প্রতিটি গল্পেই আমি প্রচণ্ড কষ্ট অনুভব করেছি। কিন্তু এত এত কষ্টের ভেতরেও ছিল তীব্র সুখ। সুখের দরিয়া।

একজন পিতা সন্তানকে পৃথিবীর সমস্ত অনুরাগ আর প্রেম দিয়েই লালন করেন। তিনি নিজের চাইতেও বেশী ভাবেন সন্তানের আরামের কথা। কিন্তু বাস্তবতা তো কারো কারো ক্ষেত্রে চরম নিষ্ঠুর। কর্মজীবনে হয়তো এমন হয়ে যায় কারো কারো বেলায়, বাবাকে ভুলে গিয়ে নিজের আয়েশের কথাই তাকে বেশী ভাবতে হয়। আহমদ মুস্তফা ‘আটপৌরে’ নামক গল্পটিতে সামাজিক কিংবা পারিবারিক ব্যধির এমনই এক দৃশ্য তুলে ধরেছেন।

এরপর আসে ‘নিষিদ্ধ গোলাপ’। গল্পটিতে অন্যরকম এক নতুনত্ব আছে। যেনবা অনাগত ভবিষ্যতে এমনই এক আশঙ্কার কথা আহমদ মুস্তফা কে ভাবিয়ে তুলেছে। এর ভেতরেও আছে চাপা চাপা কষ্ট। গভীর আবেগ। পৃষ্ঠা উল্টিয়ে যখন চোখ পড়লো, ‘বিষের নীলে শোকের এধার’।

আমি একটু নড়েচড়ে বসলাম। গল্পটা বানভাসিদের। সদ্য পেরিয়ে আসা দুর্দশার এক চিত্র আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় এ গল্পের ভেতর। বন্যা থাকাকালীন যে কষ্ট আমাদের অনুভব হয়েছিলো, তারই এক অংশ এ গল্পটি। মানুষের জীবন যখন বিপন্ন প্রায়, তখন মানুষ কী পরিমাণ পর্যুদস্ত হতে পারে এবং ধ্বংসের মুখোমুখি হয়ে একজন স্বামীহারা বিধবাকে কতটুকু যাতনা সইতে হয় তার অনন্য এক নযীর দেখিয়ে আহমদ মুস্তফা আমাদের মনকে বারেবারে ভেঙে দিতে পেরেছেন। হয়তো তার লেখার অনন্যশৈলীর এই হচ্ছে প্রধান স্বার্থà¦