আওয়ার ইসলাম: মুখ ভার। চোয়াল ঝুলে গিয়েছে। চোখে জল। বিজ্ঞাপনে ওই সদ্য-তরুণীকে দেখেছেন সকলেই। জেনেছেন তার ‘যন্ত্রণা’র কারণও। ফেসবুকে নিজের ছবি পোস্ট করার পরে এক ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু একটাও ‘লাইক’ পড়েনি। ‘কমেন্ট’ তো দূর অস্ত্।
কিংবা বাস্তবের সেই কিশোর। স্মার্টফোনে ক্রমাগত বন্ধুদের সঙ্গে চ্যাট করে করে তার ডান হাতের স্নায়ু
বিকল। স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষায় বসতে পারেনি। গভীর অবসাদ থেকে বেরোতে ১৩ বছর বয়সেই তাকে একাধিক ওষুধ খেতে হচ্ছে।
অথবা জামশেদপুরের বছর আঠেরোর তরুণী। রাতে মোবাইল ফোনে ফেসবুক, হোয়াট্সঅ্যাপ করার সময় নেট-প্যাক শেষ হলে যাঁর ‘প্যানিক অ্যাটাক’ হয়ে যায়। বুক ধড়ফড় করে। সকালে উঠে ইন্টারনেট রিচার্জ না করা পর্যন্ত ঘুমও হয় না!
ভারতের অন্যতম বড় মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্র রাঁচির রিনপাস-এর (রাঁচি ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্স) বহির্বিভাগে এখন এমনই সমস্যা নিয়ে হাজির হচ্ছেন অনেকে। হাসপাতালের চেয়ারে চুপচাপ বসে থাকতে পারছিলেন না বছর তিরিশের যুবক। চোখ-মুখে উত্তেজনা। চিকিৎসক জিজ্ঞাসা করলেন, কী সমস্যা হচ্ছে? উত্তর এল— ‘টাচস্ক্রিন ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছি না। কি-প্যাডে স্বচ্ছন্দ ছিলাম। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ চলছিল ঠিকঠাক। নতুন ফোন কেনার পর কিছুই হচ্ছে না। ভীষণ অসহায় লাগছে!’
চিকিৎসা পরিভাষায় এই রোগের নাম ‘ভার্চুয়াল অ্যাডিকশন’। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, প্রতি দিনই এমনই সমস্যার সুরাহা চাইতে রোগীর লম্বা লাইন পড়ছে হাসপাতালে। অবস্থা এমনই যে তাঁরা এ জন্য পৃথক চেম্বার খোলার কথাও ভাবছেন। হাসপাতালের শিক্ষক-চিকিৎসক আমূল রঞ্জন বলেন, “রিনপাসে চিকিৎসকের সংখ্যা কম।
এখনই নতুন কোনও চেম্বার খোলা উপায় নেই। তবে পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে আগামী দিনে তেমন ব্যবস্থা করতেই হবে।’’ তিনি জানান, এখন প্রতি দিন ৮-১০ জন রিনপাসে আসছেন, যাঁরা ওই সমস্যায় আক্রান্ত।
রাঁচির অধ্যাপক আমুল রঞ্জন বলেন, “কিছু দিন আগে রাঁচি মহিলা কলেজে ১০০ জন ছাত্রীকে নিয়ে একটা সমীক্ষা করেছিলাম। দেখা গেল, ৩৫ জন স্মার্টফোন ব্যবহারে আসক্ত।” রিনপাসে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতে এম-ফিল করছেন পুষ্পিতা সেন। তিনি বলেন, “স্মার্টফোন অ্যাডিকশন স্কেল নামে বিশেষ ধরনের যন্ত্র আমাদের কাছে রয়েছে। সেটা দিয়ে কার, কতটা স্মার্টফোনের নেশা রয়েছে তা বোঝা যায়।’’
তিনি জানান, ওই যন্ত্রে কারও সূচক ৩৩-এর বেশি ওঠা মানেই তিনি ভীষণ ভাবে স্মার্টফোনে আসক্ত। রাঁচি মহিলা কলেজের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যà