সুলতান আবদুর রহমান : অামি হয়ত কোনোদিনও অাল মাহমুদের সোনালি কাবিন নিয়ে দু-কলম লিখব না। অামার মনে হয় কী, সোনালি কাবিন নিয়ে এতো-এতো লেখা/কথা/অালোচনা হয়েছে যে, অামাদের মতো সাধারণ পাঠকদের জন্য অার কিছুই বাকি নেই। তবে, নতুন-নতুন দিক তো উন্মোচনের অাজও ঢের বাকি, সেসব না-হয় অাজ ও অাগামীর গবেষক-শিল্পীদের জন্য তোলা থাকলো।
দিনযাপনের মতো অাল মাহমুদের অারেকটি বই অাছে যেটি (অামার সামান্য বিবেচনায়) পাঠকপ্রিয়তা পাওয়া সত্ত্বেও অনালোচিত এবং হিশাবের বাইরে; দিনযাপনের থেকে এটি তুলনামূলক অনেক বেশি পরিচিত এবং পঠিত, কিন্তু দুর্ভাগ্য, দিনযাপনের মতোই এটিও অন্ধকারেই থাকল। এটা শিল্প ও শিল্পীসমাজের জন্য দুর্ভাগ্য। অন্ধকার কোন অর্থে, একটু পরেই বুঝতে পারব অামরা।
প্রবন্ধিক ও সাংবাদিক শরীফ মুহাম্মদ লেখেন : ‘দিনযাপন ও কবির আত্মবিশ্বাস কাছাকাছি সময় ও কাছাকাছি ধরনের গদ্য। কবির বিশ্বাসভুবনে প্রবেশ, পরবর্তী শত্রুতা-মিত্রতা, পথচলা এ দুটি বইয়ের গদ্য শরীর।’
শরীফ মুহাম্মদের এই বক্তব্য অামাকে একটি সুন্দর পথ দেখায়। কমুনিস্ট অাল মাহমুদ যতোটা অাদরের ছিলেন সাহিত্যের মূলধারার (এটা তো প্রতিষ্ঠিত সত্য) লেখক/কবিদের কাছে, বিশ্বাসী অাল মাহমুদ ঠিক ততটাই অচ্ছুৎ হবেন ৭২ এর পরে, তারা তাকে নিয়ে, ৭২ পরবর্তী তাঁর শিল্পকর্ম নিয়ে কথা বলবে না বা বললেও ঠেকায় পড়ে অল্পস্বল্প─না-বলারই মতো।
কিংবা জলের মতো ঘুরে-ঘুরে কবির পূর্বসাফল্যের বিবরণ রচনা মাত্র─এতে অবশ্য অবাক হওয়ার তেমন কোনো উপাদান নেই। উপরন্তু যখন কবির ৭২ পরবর্তী অধিকাংশ রচনা হয়ে ওঠে 'শিল্পের অঙ্গনের প্রকৃত কালসাপ'দের কূটচালাচালি অার গোমর-ফাঁসের বিশ্বস্থ সাহিত্যিক দলিল।
তাহলে বিশ্বাসী কবি/শিল্পীদের চুপ থাকার কারণটা কী? যখন তিনি সর্বাধিক চর্চিত বিশ্বাসী-পাড়ায়, সেখানেও তাঁর কবিতা/নানান রকম গদ্য নিয়ে কথা হয়; অাড্ডায়, ম্যাগাজিনে, পত্রিকার কলামে, ফেসবুকে, প্রবন্ধ বইয়ের পাতার পর পাতায়, কিন্তু কোথাও 'কবির অাত্মবিশ্বাস' নেই, অন্তত অামি তো এমনটা দেখি নি এখনো।
যখন অামি ভেবেছি কবির অাত্মবিশ্বাস নিয়ে লিখবো, অামি অনেক সময় নিয়ে স্মরণ করতে চেষ্ঠা করেছি, কোথাও কবির অাত্মবিশ্বাস নিয়ে কিছু বলা হয়েছে কিনা।
ধর্ম এবং দল নির্বিশেষে রচিত অামার প্রিয় প্রবন্ধের বà