আহনাফ আবদুল কাদির
আলেম ও লেখক
পৃথিবীর এই সুখ সম্ভারে কোনো কিছুরই অভাব নেই। অবারিত সম্পদে ভরপুর পৃথিবী। তবুও ‘কেউ খায় দুধ-চিনি, কারো পাতে শাক-বালি। কারো আছে কাড়ি কাড়ি টাকা। কারো হাত খালি।’
ইসলাম এই নীতিতে বিশ্বাসী নয়। বরং এই নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে ইসলামি অর্থব্যবস্থা এমন এক যুগান্তকারী প্রকল্প গ্রহণে উৎসাহিত করে, যা একই সাথে দারিদ্রে মূলোৎপাটন ও সামাজিক সমতা আনয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রদ্ধি সুসংহত করে।
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সবধরনের মৌলিক চাহিদা পূরণের নিশ্চয়তা রয়েছে এখানে।
অতি প্রয়োজনীয় এসকল মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যক্তিকেই বেশি তৎপর হতে হবে। পবিত্র কোরানের ভাষায়, “নামায শেষে তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড় এবং মহান আল্লাহর দেয়া অনুগ্রহ তালাশ কর। সুরা জুময়া : ১০
রাসুল সা. বলেন, “নিজের হাতে উপার্জিত অর্থের চেয়ে উত্তম আয় আর কিছুই হতে পারেনা”। সুনান ইবনে মাজাহ: ২/২১৩৮
সেজন্য যোগ্যতা ও উদ্যেগের সাথে সঙ্গতি রেখে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকা বাঞ্চনীয়। সকলের জন্য উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া মুসলিম সমাজের সামষ্টিক দায়িত্ব।
ইমাম ইবানে তাইমিয়া এ সম্পর্কে বলেন, “নাগরিকের নূন্যতম মৌলিক চাহিদা পূরণ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। বাইতুল মাল হতেই এ উদ্যেগ নিতে হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ ছাড়া বেকারত্ব দূর হবেনা। এজন্য সরকার কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে”। ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থা : ৩৩
তারপরেও রাষ্ট্রে বসবাসরত এমন কিছু লোক থাকে যারা শারীরীক অক্ষমতা, অসুস্থতা এবং দুর্বলতার কারণে উপার্জনে সক্ষমতা হারিয়েছে। কিংবা এমন নারী ও শিশু যাদের ভরণ-পোষণের কেউই নেই। সমাজে বসবাসরত এসব গরিবদের মৌলিক চাহিদা পূরণের এই দায়িত্ব মুসলিম সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব ও কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।
পবিত্র কুরআনে এই দায়িত্ব পালনে বারবার তাকিদ প্রদান করা হয়েছে। “আর আত্মীয়-স্বজন, নিঃস্ব অভাবী ও মুসাফিরদের অধিকার প্রদান কর”। বনি ইসরাঈল: ২৬
হাদিসের ভাষায়, যে মানুষের উপর দয়া করে না আল্লাহ তার উপর দয়া করেননা”। বুখারিঃ ১২, মুসলিমঃ ৬৬, ইবনে হিব্বানঃ ২২৩৬
আরো বলা হয়েছে, সে প্রকৃত ঈমানদার নয় যে নিজে পেট ভরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে”। আল-আদাবুল মুফরাদঃ ১৩৭৯
মহানবী সা. বলেন, “অভাব ও দুর্দশাগ্রস্থের অভাব দূর কর, ক্ষুধার্তকে অন্য দাও à