আরজু আহমদ
আলেম, লেখক
বেশ কয়েক মাস আগে উলামাদের একটা সেবামূলক সংগঠন একটা মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পায়। বরাদ্দকৃত অর্থের চেক একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে সংগঠনটির প্রতিনিধিদল গ্রহণ করতে গেলে উপস্থিত আলেমদের তিনি জিজ্ঞাসা করেন, ‘তারা বাংলাদেশপন্থী নাকি পাকিস্তানপন্থী?’
প্রশ্নটা একটু থতমত খাওয়ার মতই। পৃথিবীতে আর কোথাও নাগরিকদের এইভাবে অসম্মান করা হয় আমার জানা নাই। তবে যাই হোক, প্রশ্নটা তারা বুঝে উঠতে পারছিলেন না। পরে আরও আলাপে বুঝেন যে, সেই মন্ত্রী জানতে চেয়েছেন ‘তারা সা’দপন্থী না সা’দ বিরোধী’! অর্থাৎ যারা সা’দ বিরোধী তারা পাকিস্তানপন্থী।
এটুকুন পড়বার সময় আপনাকে মনে রাখতে হবে, আমি এই রিপালবিকের একজন ক্যাবিনেট মিনিস্টারের কথা বলছি। যাই হোক, সঙ্গত কারণে তার নাম ও দফতরের নাম প্রকাশ করছি না। এই ঘটনা সেই প্রতিনিধিদলের সবার উপস্থিতিতে পরে এক মিটিংয়ে আমি জেনেছিলাম।
সদ্য সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম একজন নেতৃত্বস্থানীয় আলেমের সঙ্গে আমার একটা প্রোগ্রামে দেখা হয়। একান্তে কিছু বিষয়ে আলাপ ও পরামর্শকালে তিনি জানালেন, প্রশাসনিকভাবে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার কথা।
বিশেষত মাহফিল আয়োজন ও অন্যান্য চিরাচরিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যেখানে রেওয়াজ অনুযায়ী কখনোই এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি তারা হন নি।
কারণটা খুব অদ্ভূত, প্রশাসনের একজন কর্তাব্যক্তি যিনি সা’দের সমর্থন করেন, তিনি এইসব করছেন। যা করছেন, তা উলামাদের সাথে চূড়ান্ত অসম্মানজনক এবং রীতিমত লড়াই চালিয়ে যাবার শামিল। এটা আমার ব্যক্তি অভিজ্ঞতা।
পরিস্থিতি সারাদেশে হয়ত এটা নয়। তবে এ কথা সত্য এইরকম হিংসা তো ইসলামের শিক্ষা না। এই শত্রুতাও ইসলামের পথ না। জুলুম কখনোই ইসলামের পন্থা না। যখন কোনো কাজ ইসলামের মৌলিক পথের বাইরে গিয়ে করা হয় সে কাজ আর ইসলামের জন্য থাকে না।
সা’দপন্থীদের এই যে, উলামা বিদ্বেষ এটাই ইসলামের মূল ধারার বাইরে।
উলামারা তাবলীগের দখল নিতে চান ব্যাপারটা সেরকম নয়। কেবল একজন ব্যক্তি সা’দ, যাকে উপমহাদেশের উলামারা ঐক্যবদ্ধভাবে বর্জন করেছেন, পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে। তার পক্ষ হয়ে উলামাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবার কি আছে? অথচ চালিয়ে যাচ্ছে একদল।
সা’দপন্থী সেই দলে এমন লোক নেতৃত্বস্থানীয় আছেন যাদের কারও কারও বিরুদ্ধে আরও বহু আগ থেকে থেকে দূর্নীতির অভিযোগ। কেউ কেউ প্রকাশ্যে জুয়ায় বিনিয়োগ করেছেà¦