সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৫ মাঘ ১৪৩২ ।। ৩০ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার ভোট দিতে কেউ বাধা দিলে সে শেখ হাসিনা হয়ে যাবে: আসিফ নজরুল বক্তৃতা চলাকালেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন জামায়াতের জেলা আমির মাওলানা মামুনুল হকের দুই আসনে প্রার্থী দেবে না ইসলামী আন্দোলন ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে হাতপাখার বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ’ ভোটের মাঠে ১ লাখ সেনাসহ থাকবে ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য  জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিন: শায়খ আহমাদুল্লাহ স্পেনে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে প্রাণহানি বেড়ে ৩৯ বাংলাদেশকে ৩০ হাজার টন সার উপহার দিল রাশিয়া হবিগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামি ফ্রন্টের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন তাহেরীকে শোকজ

আফগানিস্তান-সিরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার নিয়ে বিতর্ক

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার পর গত দুই বছরে নানা মন্তব্য ও কর্মকাণ্ড দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেক বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন।

আইএস পরাজিত হয়েছে আকষ্মিক এ ঘোষণা দিয়ে সিরিয়া থেকে তার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা ধাঁধায় ফেলে দিয়েছে সবাইকে। আর এর একদিনের মধ্যেই ঘোষণা এলো, আফগানিস্তান থেকেও সেনা গুটিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র।

মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিরিয়া ও আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণার রেশ যেন কাটছে না। জল্পনা শুরু হয়েছে, সত্যিই কি এই সেনা প্রত্যাহার অঞ্চল দুটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনবে নাকি নতুন করে শক্তিশালী করে তুলবে আইএস বা তালিবানের মত সংগঠনকে?

অনেকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতিতে রাশিয়ার সহযোগিতায় তালিবানরা আবার নতুন করে শাক্তিশালী হয়ে উঠবে আফগানিস্তানে। এছাড়াও, ফাঁকা মাঠে সিরিয়াতেও নিজের অবস্থান শক্ত করবে রাশিয়া।

অন্যদিকে, সিরিয়ায় আইএস পরাজিত হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন ঘোষণার সাথে একমত নন অনেকেই। তাদের মতে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে একদিকে যেমন পিছু হঠতে থাকা আইএস নিজেদের চাঙ্গা করতে সময় পাবে, অন্যদিকে মার্কিন সেনাদের অনুপস্থিতিতে বিদ্রোহী কুর্দিরা পড়বে বিপাকে।

এর মধ্যেই তুরস্ক, কুর্দি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। এ সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের সায় আছে, এমন কথাও এর মধ্যেই জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান।

মার্কিন কংগ্রেসের সিনেটর লিন্ডসেই গ্রাহাম বলেন, ইরাকের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে, সেটাই ঘটতে যাচ্ছে সিরিয়ায়। আর ট্রাম্পের এ ঘোষণায় সবচেয়ে খুশি রাশিয়া, ইরান এবং আসাদ। এতটাই আনন্দিত যে সুযোগ থাকলে তারা একপাক নেচে নিতো।

মার্কিন সেনা প্রত্যহারের ঘোষণার পরপরই এর সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি। আর, এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে রাশিয়া। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে মিত্র দেশগুলোর সংযোগ হিসেবে বিবেচিত প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিসের পদত্যাগ নতুন শংকার জন্ম দিয়েছে।

এমনিতেই সময়টা বেশ কঠিন হয়ে উঠেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য। একদিকে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের একের পর এক তদন্ত। তার উপর মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নিয়েও অচল অবস্থার মুখোমুখি প্রশাসন।

এছাড়াও, জানুয়ারি থেকেই পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ডেমোক্র্যাটদের তোপের মুখে পড়তে হবে ট্রাম্পকে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, সেনা প্রত্যাহারের জন্য এই সময়কেই কেন বেছে নিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প?

মাইকেল কর্নফিল্ড, সহযোগী অধ্যাপক, জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মাইকেল কর্নফিল্ড বলেন, পরিহাসের বিষয় হলো অনেকেই আছেন যারা ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন, তবে যে সময়ে এবং যে পদ্ধতিতে এ ঘোষণা এলো এ নিয়ে তারাও বেশ বিভ্রান্ত। যারা আফগানিস্তান আর সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পক্ষে তারাও ভাবছেন এর কার্যকর পদ্ধতি ও সময় নিয়ে।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে আফগানিস্তান থেকে ৭ হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা এলেও সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো জানাননি বলে জানা যায়।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ