আওয়ার ইসলাম: মেক্সিকো সীমান্ত প্রাচীরের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অচলাবস্থা চলছেই।
যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিক ও ডেমোক্র্যাট শিবিরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই সরকারের আংশিক অচলাবস্থা গড়ালো ১২ দিনে। এতে সরাসরি ভুগতে হচ্ছে দেশটির প্রায় ৮ লাখ সরকারি কর্মচারিকে। এদিকে, ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ না দেয়া হলে অচলাবস্থা কাটবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, মেক্সিকো সীমান্ত বরাবর দেয়াল তুলে দেবেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, দেয়ালের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে রাজি হচ্ছে না কংগ্রেস। হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসে সর্বসম্মতভাবে এ নিয়ে বিল পাস না হওয়ায় ২২ ডিসেম্বর থেকেই মার্কিন সরকারের বেশ কিছু দপ্তরে তৈরি হয় অচলাবস্থা।
এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক হলেও আসেনি কোন সমাধান। সবশেষ বুধবার ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান শিবিরের পার্লামেন্ট সদস্যদের সাথে বৈঠকেও আসেনি সমাধান। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অর্থ বরাদ্দ নিয়ে কোন সমঝোতা করবেন না তিনি।
ট্রাম্প বলেন, কংগ্রেস যা দিতে চাইছে, আমার প্রয়োজনের তুলনায় তা কিছুই না। যতক্ষন পর্যন্ত আমি প্রয়োজনীয় অর্থ না পাবো, ততক্ষণ পর্যন্ত এমন চলতেই থাকবে। আমি নিশ্চিত, দেশের জনগন আমার অবস্থানকে সঠিক বলেই মেনে নেবে।
এদিকে, ১২ দিন ধরে অচলাবস্থার জেরে ভুগতে হচ্ছে দেশটির লাখ লাখ সরকারী কর্মচারীকে। এর মধ্যেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে অনেক পার্ক, জাদুঘর। থমকে আছে অনেক গবেষণা প্রকল্প।
কেবল পার্ক, জাদুঘর নয়, কোথাও কোথাও পাবলিক টয়লেট পরিষ্কার করার লোক পর্যন্ত নেই। সবমিলিয়ে বেহাল দশায় যুক্তরাষ্ট্র। ডেমোক্র্যাট শিবিরের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার নামে ট্রাম্প যা করছেন, তাতে চাপা পড়ে যাচ্ছে দেশটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর চাক স্কুম্যার বলেন, আমরা আশা করি উদ্দেশ্য পূরণের জন্য তারা আমেরিকার জনগনকে ব্যবহার করবে না। কয়েক লক্ষ মানুষ এতে ভুগছে-হয় বেতন ছাড়া কাজ করছে অথবা বেকার বসে আছে। এদের জিম্মি করে কিছু আদায় করার আচরণ মেনে নেয়া যায় না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প গোঁ না ছাড়লে মার্কিন অর্থনীতির অবস্থা ভয়াবহ খারাপ হতে পারে। তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ওপর।
আর সময় থাকতে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে পুরো আমেরিকায় বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী শুক্রবার আবারো কংগ্রেস নেতাদের সাথে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ট্রাম্পের।
-এটি