সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৫ মাঘ ১৪৩২ ।। ৩০ রজব ১৪৪৭


রাজ্যসভায় বিজেপির ব্যর্থতা; আটকে গেলো তিন তালাক বিল

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

তাওহীদ আদনান, ইন্ডিয়া থেকে

গতকাল ২ জানুয়ারি বুধবার পূর্ব সিদ্ধান্ত মোতাবেক ভারতে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ তথা রাজ্যসভায় উত্থাপিত হয়েছিল তিন তালাক বিল৷ পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল লড়াইয়ের পরে সিদ্ধান্তহীনই থেকে গেছে বিলটি৷

তিন তালাক বিল উত্থাপনকে কেন্দ্র করে পূর্বেই রাজনৈতীক দলগুলো স্ব স্ব পার্লামেন্ট মেম্বারদের সকলকে রাজ্যসভায় উপস্থিত থাকার প্রতি দিয়েছিল কড়া নির্দেশ৷ সে মোতাবেক গতকাল তিন তালাক নিয়ে পার্লামেন্টে হয়েছিল তুমুল লড়াই৷

বিরোধীতার জেরে শেষ পর্যন্ত বিলটির ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি বিজেপি৷ তাই সিদ্ধান্তহীনভাবেই রাজ্যসভায় আটকে গেলো তিন তালাক বিল৷

বিশ্লেষকদের মতে, গতকালকের অধিবেশনের পরে এখন বিজেপির জন্য তিন তালাক বিল পাশ করানো দুঃসাধ্য হয়ে গেছে পুরোপুরি৷

তাদের জন্য এখন দুটি রাস্তাই কেবল খোলা রয়েছে৷ হয়তো বিরোধী দলের প্রস্তাব মেনে নিয়ে জয়েন্ট সিলেকশন কমিটিতে পাঠানো অথবা আগামী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করা৷

এখন বিজেপি যদি আগামী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করে তাহলে তাদের কোনো লাভ নেই৷ কেননা আগামী অধিবেশনই বিজেপি সরকারের শেষ অধিবেশন৷ এরপর তাদের ক্ষমতার মেয়াদ শেষ৷ আর আগামী অধিবেশন হবে বাজেট প্রণয়নের অধিবেশন৷ যেখানে বাজেট ব্যাতিরেকে অন্য কোনো বিলও উঠানো যাবে না৷

বাজেট প্রণয়নের অধিবেশনের পরে আর কোনো অধিবেশন যেহেতু বাকী নেই বিজেপি সরকারের, তাই যদি বিজেপি সরকার বিরোধী দলের প্রস্তাব মেনে না নেয়, তাহলে তিন তালাক বিলের আলোচনা সংসদে উঠবে আবার নতুন সরকারের আমলে৷ নতুন সরকার যে হবে তার আন্ডারেই হবে তিন তালাক বিলের ফায়সালা৷

উল্লেখ্য, গত ২৭ ডিসেম্বর তিন তালাকের বিলটি বহুদিন পরে আলোচনায় আনে সরকার৷ ফলে পার্লামেন্টে নিম্নকক্ষ তথা লোকসভায় উত্থিত হয় বিলটি৷ তখনই কংগ্রেস ও তৃণমূলসহ অন্য বিরোধীরা যৌথ সংসদীয় সিলেক্ট কমিটিতে সেটিকে পাঠানোর দাবি তোলে।

বিরোধীদলগুলোর আপত্তি উপেক্ষা করেই বিলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে লোকসভায় পাশ করিয়ে নেয় সরকারপক্ষ। কিন্তু রাজ্যসভায় সরকার সংখ্যালঘু। বছরের শেষ দিনে নানা দলের সাংসদ কম থাকবেন, এমনটা ভেবে বিলটি গত ৩১ ডিসেম্বর উচ্চকক্ষে আনার কৌশল নেয় সরকারপক্ষ।

কিন্তু বসে ছিল না বিরোধীদলগুলোও। কংগ্রেস নিজের দলসহ অন্যান্য সকল বিরোধী দলের সাংসদদের উপস্থিত থাকার জন্য জরুরি হুইপ জারি করে। ৩১ ডিসেম্বর সকালে সকল বিরোধী দলকে নিয়ে রাজ্যসভায় উপস্থিত হয় কংগ্রেস।

বিলটি যথা সময়ে রাজ্যসভায় উঠলে তুমুল হট্টগোল লেগে যায় সেদিন৷ এরপর প্রাথমিকভাবে কয়েক ঘন্টা বিলটি মুলতবি করে আবার বিকেলে উঠানো হয় আলোচনায়৷ বিরোধের জেরে বিকেলেও অবস্থা বেগতিক হয়ে উঠলে ২ জানুয়ারির অধিবেশন পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়৷ সে অনুযায়ী গতকালও আলোচনায় উঠে বিলটি৷ কিন্তু কালও কোনো ফায়সালায় পৌঁছতে পারেনি বিজেপি৷

বিরোধী দলগুলোর দাবী, সদ্য সমাপ্ত হওয়া পাঁচ প্রদেশের প্রাদেশিক নির্বাচনে মোদি সরকারের দল বিজেপি হেরে যাওয়ায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই বিতর্কিত এই আইন পাশ করতে উঠে পড়ে লেগেছে তারা। তবে মোদী সরকার বলছে, ন্যায় ও মানবতা রক্ষার জন্যই সামনে এনেছে তারা তিন তালাক আইনটি।

জানা গেছে, সর্বপ্রথম সুপ্রিম কোর্ট তিন তালাককে ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘বেআইনি’ বলার পরেই মূলত তিন তালাককে অপরাধ বলে বিল এনেছিল মোদী সরকার।

এরপর বিলটি নিয়ে আলোচনা উঠায় লোকসভায়৷ প্রথমবার লোকসভায় বিল পাশের পরে এই রাজ্যসভাতেই তা আটকে যায়। সরকার অধ্যাদেশ আনে। বিলে কিছু সংশোধন করে ফের গত ২৭ ডিসেম্বর লোকসভায় বিলটি পাশ করায় দ্বিতীয়বার।

সংশোধিত বিলটি লোকসভায় দ্বিতীয়বার পাশ করিয়ে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে গত ৩১ ডিসেম্বর আবার রাজ্যসভায় আলোচনায় আনে সরকার৷ কোনো মতে পাশ করিয়ে ফেলতে চাচ্ছিল তারা তিন তালাক বিলটিকে৷

কিন্তু সেদিনও রাজ্য সভায় তা সম্ভব হলো না আর৷ লড়াইয়ের মাত্রা তীব্র থেকে তীব্র হয়ে যাওয়ায় কার্যক্রম ২ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করে দিতে বাধ্য হয় সরকারপক্ষ৷ ফলে গতকাল ২ জানুয়ারি আবার উঠে রাজ্যসভায়৷ কিন্তু গতকালও হলো না কোনো সিদ্ধান্ত৷ ফলে এখন অনির্দিষ্ট কালের জন্যই বন্ধ রয়েছে এই তিন তালাক বিল৷ সূত্র: মিল্লাত টাইমস

এইচএএম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ