বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
ফরিদগঞ্জে রাজকীয় বিদায় ৬ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের   বাংলাদেশ কওমী যুব ফোরামের আহ্বায়ক কমিটি, আহ্বায়ক সাখী সদস্য সচিব তানজিল কুয়েতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান বাংলাদেশ দূতাবাসের  সৌদি আরব গেছেন সিরাত অলিম্পিয়াডের ওমরাহ বিজয়ী নাজিফা খান   ‘১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ’ সম্পর্কে যে তথ্য দিলেন পুলিশ বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মির্জা আব্বাসের অশ্রুসিক্ত বক্তব্যে থমকে গেল সংসদ ডা. জুবাইদা রহমানের হাতে জিয়া স্মৃতি বইমেলার উদ্বোধন শাপলা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান যুক্ত হচ্ছে কওমি মাদরাসার সিলেবাসে সাংবাদিকদের বেতন নিয়মিতকরণের দাবিতে বিএফ‌ইউজে এবং ডিইউজের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ

ব্রেক্সিটের বিপক্ষে ভোট দিতে সিজারের সময় পেছালেন টিউলিপ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: ‘চিকিৎসক যেদিন তারিখ দিয়েছেন, তার একদিন পর আমার সন্তান পৃথিবীতে আসতে পারে। ব্রিটেন আর ইউরোপের সম্পর্ক মজবুত করতে সেটাই যদি করতে না পারি, তাহলে কীসের লড়াই!’

কথাগুলো বললেন ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। ব্রেক্সিট ভোটে তার এই সিদ্ধান্ত নিয়েই আপাতত তোলপাড় ব্রিটেনের পার্লামেন্টে।

হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্নের এমপি সিদ্দিক ৩৭ সপ্তাহের গর্ভবতী। ৪ ফেব্রুয়ারি সিজার প্রক্রিয়ায় সন্তানের জন্ম দেওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ডায়াবেটিস ধরা পড়ায় রয়্যাল ফ্রি হসপিটালের চিকিৎসকরা তাকে পরামর্শ দেন, ১৪ অথবা ১৫ জানুয়ারি অস্ত্রোপচার করা দরকার। এটি তার দ্বিতীয় সন্তান। কিন্তু তিনি চিকিৎসকদের জানিয়ে দেন, সন্তানের জন্ম দেওয়ার থেকেও ব্রেক্সিটের বিপক্ষে ভোট দেওয়া অনেক বেশি জরুরি। আর সেটা নিজের সন্তানদের স্বার্থেই।

চিকিৎসকদের তিনি প্রস্তাব দেন, ১৭ জানুয়ারি যেন তার সিজার করা হয়। উপায় না দেখে সেই প্রস্তাবই মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন চিকিৎসকরা।

সিদ্দিকের কথায়, ‘হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্য আইন নিয়ে দারুণ সচেতন। বলা যেতে পারে, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে গিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি।’

কিন্তু কেন? ব্রিটেনের পার্লামেন্টে সাধারণভাবে প্রচলিত আছে, অন্তঃসত্ত্বা, সদ্য মা হয়েছেন -এমন অথবা অসুস্থ এমপিরা বিপক্ষ দলের এরকম কোনও এমপির সঙ্গে মৌখিক চুক্তি করে উভয়েই ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। এর ফলে সামগ্রিকভাবে ভোটের ফলে কোনও প্রভাব পড়ে না। কিন্তু ২০১৮ সালের জুলাই মাসে এমনই একটি ‘চুক্তি’ ভঙ্গ করেন রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান ব্র্যান্ডন লুইস। লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের ডেপুটি লিডার জো স্যুইনসনের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করে ভোট দিতে চলে আসেন তিনি। পরে তার জন্য স্যুইনসনের কাছে দুঃখপ্রকাশ করলেও সেই ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র স্মৃতিই দগদগে সিদ্দিকের মনে।

সিদ্দিকের মতে, ‘এই ব্যবস্থাটাকে যদি ফের অসম্মান করা হয়, তাহলে আমার কিছু করার থাকবে না। কারণ, এই ভোটটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভোট দিতে আসার জন্য আমার উপর দলের কোনও চাপ নেই। কিন্তু এই সিদ্ধান্তটা আমি নিয়েছি আমার দেশের স্বার্থে। আমার ছেলেও যাতে পৃথিবীতে এসে জানতে পারে, ব্রিটেনকে ইউরোপের সঙ্গে জুড়ে রাখার জন্য এরকম কিছু করেছিল তার মা।’

আপাতত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণেই রয়েছেন তিনি। স্থিতিশীল। আজ পার্লামেন্টে হুইল চেয়ারে করে সিদ্দিককে নিয়ে আসবেন তার স্বামী ক্রিস। ঘটনাচক্রে, দুই বছর আগে মেয়ে আজালিয়ার জন্মের সময়ও সমস্যা তৈরি হয়েছিল তার। তবে সেটা শারীরিক। কিন্তু ছেলের বেলায় দেশের স্বার্থে তার জন্ম দেওয়া পিছিয়ে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন, পার্লামেন্ট হয়তো কুর্নিশ জানাবে তাকে। সম্মান জানাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। কারণ, তাদের দিকে তাকিয়েই নিজের সঙ্গে এই লড়াই সিদ্দিকের।

কেপি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ