আওয়ার ইসলাম: ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের স্বায়ত্তশাসন একদম নিকটই। আর মাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় পর্যায়ের গণভোট। প্রথম পর্যায়ের গণভোটে স্বায়ত্তশাসনের জন্য আনা বাঙসামোরো অর্গানিক ল (বাঙসামোরো জনগণের জন্য মৌলিক আইন) বিশাল ব্যবধানে পাস হয়েছে।
২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রথম দফার গণভোটের ফলাফল শুক্রবার প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, বিপুল ভোটের ব্যবধানে আইনটি পাস হয়েছে।
মিন্দানাও দ্বীপের মুসলিমদের স্বায়ত্তশাসন এখন সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ শুক্রবারের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, প্রথম দফার গণভোটে আইনটির পক্ষে এত বেশি সমর্থন পড়েছে যে, দ্বিতীয় দফার গণভোটে তা নাকচ হওয়ার কোনো কারণই নেই।
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গণমাধ্যম এবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণভোটে ১৬ লাখ মানুষ আইনটির পক্ষে রায় দিয়েছে। আর বিপক্ষে ভোট পড়েছে আড়াই লাখ।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ান বলেছে, গণভোটের এই বিজয়কে স্বাগত জানিয়েছেন স্বাধীনতাকামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মুরাদ ইব্রাহিম। তবে তিনি একে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেছেন।
মুরাদ ইব্রাহিম বলেন, ‘সত্যিই এটিকে আমরা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি, কারণ আমরা বিল্পব থেকে সরকারে যাচ্ছি। এটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে, কারণ আমাদের অনেকেই কখনও সরকারে ছিলাম না।’ স্বায়ত্তশাসন কার্যকরের পর যে সরকার গঠিত হবে মরাদ ইব্রাহিম তার প্রধান হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ার সমান আয়তন বিশিষ্ট মিন্দানাও ফিলিপাইনের সবচেয়ে অনুন্নত এলাকা। কিন্তু সেখানে নিকেলের খনি পাওয়া গেছে এবং বড় বড় ফলের বাগান রয়েছে। এ ছাড়া সরকার সেখানে পাম অয়েলের ফার্ম করতে চাইছে। যুগের পর যুগ ধরে চলা যুদ্ধ, আইন শূন্যতা ও সংঘাতের কারণে বিনিয়োগকারীরা সেখানে যেতে আগ্রহী ছিল না।
উল্লিখিত বিল পাস হওয়ায় স্থানীয় শাসকবর্গ, আইন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা থাকবে। তবে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বৈদেশিক নীতি ও অর্থ সংক্রান্ত নীতি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।
সেইসঙ্গে আইনটি কার্যকর হলে ওই অঞ্চলের মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট (এমআইএলএফ) ও অন্যান্য বিদ্রোহী তথা স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলত সংগঠনগুলো তাদের অবস্থান থেকে সরে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলো সে ঘোষণাও দিয়েছে। এখন শুধু আইনটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের অপেক্ষা।
-এটি