মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৫ মাঘ ১৪৩২ ।। ১ শাবান ১৪৪৭


গুলি করো, তবু রাখাইনে পাঠিও না: অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে রোহিঙ্গারা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের পর নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে শোনা বিভিন্ন ভয়াবহ গল্প শেয়ার করেছেন বাংলাদেশ সফররত জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।

তিনি জানান, মিয়ানমারে যারা নির্যাতিত হয়েছে তাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। নির্যাতিতরা তাকে বলেছেন, হয় আমাদের বাংলাদেশে রাখো, নইলে গুলি করো। কিন্তু রাখাইনে ফেরত দিও না।

এই প্রথমবার বাংলাদেশ সফরে এসেছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। চার দিনের সফরে ঢাকায় আসা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি সোমবার সকালে নভোএয়ারের একটি ফ্লাইটে কক্সবাজারে যান। সেখান থেকে গাড়িযোগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান এবং রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ঢাকায় ফিরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বুধবারের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাখাইনে গবাদিপশুর মতো ব্যবহৃত হওয়ার কথা রোহিঙ্গারা আমাকে জানিয়েছে। আমি এমন কিছু পরিবারের সাথে কথা বলেছি, যাদের জীবনজুড়ে গণহত্যার দগদগে স্মৃতি; এটা খুবই হতাশাজনক একটা কাজ।’

জোলি বলেন, ‘এখন সবার দায়িত্ব হলো রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের যেনো ফেরত না পাঠানো হয়।’

একইসঙ্গে, বিপুল পরিমাণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন৷ এর পাশাপাশি বিশ্ব সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেন, ‘তবে সংখ্যাটা এতো বড় যে, বাংলাদেশ সামলাতে পারবে না, সে কারণেই সবার সহযোগিতা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গার জাতি হিসেবে বাংলাদেশে এসেই প্রথমবারের মতো নিবন্ধিত হলো। এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত তারা যাতে নিজ দেশে নাগরিকত্ব পেয়ে মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে তা নিশ্চিত করা।’

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী মুসলমান রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে নির্বিচারে গণহত্যা ও নির্যাতন চালানোর কারণে দেশটি থেকে কমপক্ষে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে দেশটি থেকে আরও চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের সহযোগিতায় কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় তাদের জন্য শরণার্থী শিবির খোলা হয়েছে। তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। এ অবস্থায় মিয়ানমার থেকে নতুন করে আর কাউকে আশ্রয় দিতে আগ্রহী নয় সরকার।

কেপি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ