সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব ও কাতারের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ বিশ্বজয়ী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে সংবর্ধনা দিল ধর্ম মন্ত্রণালয় লক্ষ্মীপুরে ড্রাম ট্রাকচাপায় বৃদ্ধ ভ্যানচালকের মৃত্যু দেশে ফিরেছেন মালয়েশিয়ায় কুরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হাফেজ হিরা ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে ইসির বৈঠক ‘নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে 'জিরো টলারেন্স' কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই’ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক যা চাচ্ছে, নতুন সরকারও তাই চাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু আজ, প্রচারণার নির্দেশ

কুরআন মাজিদ ও হাদীসে কুদসীর ব্যবধান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুসা আল হাফিজ


সম্ভবত হাদীস বিভাগে পড়াশোনা করে। আমার এলাকার ছেলে। প্রায়ই হাদীস সম্পর্কিত নানা প্রশ্ন ম্যাসেজ করে। গতকালের প্রশ্ন ছিলো, আল কুরআন আল্লাহর বাণী। সেটা যদি কাদীম বা অনাদী হয়, হাদীসে কুদসীও তো আল্লাহর বাণী। তা কেন অনাদী হবে না?

ছেলেটির আগ্রহে আল্লাহ তায়ালা বারাকাত দিন। আ মী ন। মনে হলো বিষয়টি নিয়ে অনেকের প্রশ্ন থাকতে পারে। অতএব উন্মুক্ত আলোচনা করা যাক।

কুরআন মজিদের বাণী ওহী, হাদীসে কুদসীও ওহী । কিন্তু পার্থক্য হলো, কুরআন মজিদের শব্দ ও মর্ম সরাসরি ওহীরূপে প্রিয় নবীর সা. কাছে নাযিল হয়েছে। কিন্তু হাদীসে কুদসীর বিষয়টি ভিন্ন । এখানে শব্দ ও বাক্য প্রিয় নবীর সা., কিন্তু মর্মটি তিনি লাভ করেছেন জিবরাঈলের আ. মাধ্যমে কিংবা ইলহামে অথবা স্বপ্নযোগে, আল্লাহ পাকের তরফ হতে। হাদীসে কুদসীর সংজ্ঞায় এটা স্পষ্ট করা হয়েছে।

‘‘এ হচ্ছে সেই সব হাদীস, যা বর্ণনার ক্ষেত্রে আল্লাহ পাকের দিকে সম্বন্ধিত হয়েছে। প্রিয় নবী সা. হাদীস বলতে গিয়ে বলেছেন, ‘আল্লাহ পাক বলেন’ অথবা ‘জিব্রাইল আ. বলে গেছেন’ অথবা ‘জিব্রাইলের আ. মাধ্যমে আমার প্রভু বলেছেন’।

এ সব হাদীসকে হাদীসে ইলাহী, হাদীসে রব্বানী বা হাদীসে কুদসী বলা হয়। তবে কুদসী নামেই এসব হাদীস বিখ্যাত। কুদসী শব্দটা কুদস থেকে উত্পত্ত। অর্থ পূত-পবিত্রতা, মহিমাময়তা, পবিত্রতা। আল্লাহ পাকের একটি গুণবাচক নাম কুদ্দুস বা পবিত্র-মহিমান্বিত। পবিত্র কুদ্দুস নামের দিকে সম্বন্ধিত হয়ে হাদীসগুলো কুদসী নামে খ্যাত হয়েছে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে আল কুরআনের বাণীর সাথে হাদীসে কুদসীর ব্যবধান পরিষ্কার। আল কুরআনে যে সব হরফ, শব্দ, বাক্য আমরা তেলাওয়াত করি, তার সবটুকুই আল্লাহর তরফ থেকে। এটা সেই কালাম, যা মাখলুক বা সৃজিত নয়, লৌহে মাহফুজে যা সংরক্ষিত,যার তেলাওয়াতকারী মহান আল্লাহ, যা আরশে লিখিত, যা ইস্রাফিলের আ, কপালে সুরক্ষিত, যা আল্লাহর কালাম সিফাতের বহিপ্রকাশ, যার শুরু নেই, সমাপ্তি নেই, যখন পৃথিবী ছিলো না-তখন এসব শব্দ-বাক্য ছিলো, যখন কোনো পাঠক ছিলো না, তখন এ পাঠ ছিলো, যখন পৃথিবী থাকবে না, তখনও এসব শব্দ, বাক্য থাকবে, পাঠ থাকবে।

কিন্তু হাদীসে কুদসীর শব্দ, বাক্যগঠন করেছেন প্রিয়নবীর । শব্দে যে অলঙ্কার, তা প্রিয়নবীর নির্মাণ, বাক্যে যে শিল্প ও সৌন্দর্য, তা প্রিয় নবীর সা. নির্মাণ। কথনের যে রূপ ও ধরণ, তা প্রিয় নবীর সা. নিজস্ব। মর্মটা কেবল এসেছে আল্লাহর তরফ থেকে। তাহলে উত্সগত দিক থেকে হাদীসে কুদসী ও কুরআনের আয়াতের ব্যবধানের দিকটা পরিষ্কার।এটা