সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :

বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা ইব্রাহিম দেওলার আম বয়ান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

তুরাগ নদের তীরে গড়ে ওঠা বিশ্ব-মুসলিমের মিলনমেলা ইজতেমা মাঠের ধারাবাহিক আমলের অংশ ইজতেমার দ্বিতীয় দিন বাদ মাগরিব বয়ান। ধারাবাহিক আমলের এ অংশে বয়ান করেছেন ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা। বয়ানটি আওয়ার ইসলাম-এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরেছেন নুরুদ্দিন তাসলিম।


আল্লাহ তায়ালা আমাদের এখানে বসাকে কবুল করুন। এবং পৃথিবীর হেদায়েতের মাধ্যম বানিয়ে দিন। আমলের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রত্যাশা রাখতে হবে।হতে পারে আমাদের এই কষ্ট স্বীকার আমাদের ক্ষমা লাভের উপকরণ ।

একবার রাসুল সাঃ কোন শীতপ্রধান অঞ্চলে সফর করলেন। সে অঞ্চলের শীতের তীব্রতার তুলনায় সাহাবাদের পোশাক ছিল বেশ অপ্রতুল। তাই শীতের প্রকোপ থেকে বাচতে সাহাবারা গর্ত খুঁড়ে তাতে অবস্থান নিলেন। জামাতের পাহারার দায়িত্বে কেউ থাকলেন না। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ সাঃ এ অবস্থা দেখে ঘোষণা দিলেন: আজকের এই রাতে যে পাহারা দেবে, তার কষ্টের বিনিময় হবে তার জন্য আমার বিশেষ দোয়া।

এ কথা শুনে নবীপ্রেমিক এক সাহাবি সাথেসাথে রাজী হলেন। রাসুল সাঃ এর দোয়া লাভ করে ধন্য হলেন। পরক্ষণেই তার মতো বিশেষ দোয়া লাভের আশায় আরেক সাহাবী পাহারায় রাজি হলেন। রাসুল সাঃ তার জন্যও দোয়া করলেন। তবে প্রথমজনকে প্রাধান্য দিয়ে তার জন্য এক্টু কমিয়ে দোয়া করলেন। আল্লাহর রাস্তায় পাহারার কষ্টের বিনিময়ে সাহাবারা রাসুল সাঃ এর বরকতম দোয়া লাভ করলেন। সুতরাং এই মাঠে এসে যারা বিভিন্ন কষ্ট করছেন তারাও আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার পাবেন।

আল্লাহ তায়ালার কাছে চাইতে হবে। সাথেসাথে আশা রাখতে হবে। নবুয়তের পাক জবানেও আল্লাহ তায়ালার কাছে চাওয়ার সাথেসাথে আশা রাখতে বলা হয়েছে। ইলিয়াস র বলেন আল্লাহ তায়ালার কাছে চাওয়ার পরও একিন না রাখাটা যেন মুনাফিকের আলামত। তাই আল্লাহ তায়ালার কাছে চাইতে হবে একিনের সাথে।

যে ব্যক্তি আমল করে। কিন্তু তার অন্তরে একিন থাকেনা, সে ফাসেক। নবুয়তের পাক জবানে উচ্চারিত হয়েছে: যে ব্যক্তি কষ্টে সবর ও সুখে শুকর করে, বিপদ-আপদে মহান রবেতে রাজী থাকে, সেই প্রকৃত মুমিন।

পৃথিবীর চিরায়ত নিয়মে মানুষ কখনো অসুস্থ হয়। আবার কখনো সুস্থ থাকে। ব্যক্তিগত জীবনে কেউ দরিদ্র, কেউবা ধনী। সামাজিক জীবনে কেউ দলিত, কেউ প্রভাবশালী। আবার ঋতু পরিক্রমায় শীত- গ্রীষ্মের ব্যবধানে কখনো দিন বড়। রাত ছোট। কখনো রাত বড়, দিন ছোট। রাত দিনের পরিবর্তনশীল এই নিয়মের আড়ালে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পরিক্ষা করেন। যে ব্যক্তি এই পরিক্ষার অবস্থায়ও আল্লাহ তায়ালার হুকুম পালন করে। সে কামিয়াব ।

স