সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৫ মাঘ ১৪৩২ ।। ৩০ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
ভোট দিতে কেউ বাধা দিলে সে শেখ হাসিনা হয়ে যাবে: আসিফ নজরুল বক্তৃতা চলাকালেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন জামায়াতের জেলা আমির মাওলানা মামুনুল হকের দুই আসনে প্রার্থী দেবে না ইসলামী আন্দোলন ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে হাতপাখার বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ’ ভোটের মাঠে ১ লাখ সেনাসহ থাকবে ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য  জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিন: শায়খ আহমাদুল্লাহ স্পেনে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে প্রাণহানি বেড়ে ৩৯ বাংলাদেশকে ৩০ হাজার টন সার উপহার দিল রাশিয়া হবিগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামি ফ্রন্টের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন তাহেরীকে শোকজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিতে পারবে না : ধর্ম উপদেষ্টা

মুসলিমবিরোধী আইন: দেওবন্দে নারীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: পুলিশের কড়া নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন "এন আর সি"র বিরুদ্ধে দেওবন্দ ঈদগাহে মুসলিম নারীদের অনির্দিষ্টকালীন বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান ৭ম দিনেও অব্যাহত রয়েছে।

গুরু দুয়ারা, পাঠান পাড়া, আবুল মাআলি, জিয়াউল হক, রেলওয়ে রোড, খানকা এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল সংখ্যক নারী ছোট শিশু সন্তানদের নিয়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করছেন।

সবার হাতেই শোভা পাচ্ছে সিএএ বিরোধী বিভিন্ন ব্যানার ও পোস্টার। সরকারের বর্ণবাদী আইনের ধ্বংস কামনা করে সবাই বিভিন্ন শ্লোগান দিচ্ছেন। সময় গড়ানোর সাথে সাথে বিক্ষোভ সমাবেশও কঠোর হচ্ছে। ছোট বাচ্চারা বিক্ষোভে নতুন রঙ ঢেলে দিচ্ছে। বিক্ষোভের নতুন নতুন কৌশল বের করছে।

মেয়েরা মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে, বাচ্চারা গালে জাতীয় পতাকা এঁকে নিজেদের বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে।

মহিলারা স্টেজের মাইকে ঘোষণা দিচ্ছেন, তারা নাগরিকত্ব প্রমাণের নথিপত্র দেখাবেন না। কারণ তারা ভারতেরই নাগরিক। আর এখন তা প্রমাণের কোন প্রয়োজন নেই।

বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজক এবং নারী ঐক্য কমিটির প্রধান আমেনা রুশি তার বক্তব্যে বলেন, দেশের সংবিধান এবং গণতন্ত্র রক্ষায় সবাই আন্দোলন করছে। কেননা বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন আমাদের দেশের আইনের বিপরীত। যুগ যুগ ধরে এখানে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে আসছে। এই সম্প্রীতিই আমাদের দেশের পরিচয় বহন করে।

অথচ বর্তমান সরকার নিজের অবৈধ ইচ্ছা পূরণে এই মহান সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। কিন্তু দেশের আমজনতা সরকারের এ ইচ্ছা কখনো পূর্ণ হতে দিবেনা।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নাজিয়া পারভীন, সালমা আহসান, হাজেরা খান বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের ক্ষতি সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, বিতর্কিত বর্ণবাদী নাগরিকত্ব আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার মূলত নিজের অক্ষমতা ঢাকতে চাইছে- কিন্তু দেশের জনগণ তা বুঝতে পেরেছে।

আজমী উসমানী, হুমা কোরেশী, ফাইজিয়া সারওয়ার, সাজেদা খান বর্ণবাদী নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, স্বাধীনতার ৭৩ বছর পরে আমাদের কাছে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে। দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের জন্য এর থেকে বড় অপমান আর কি হতে পারে!

তারা আরো বলেন, সরকার আসামে এন আর সি বাস্তবায়ন করে অনেক আগেই ব্যর্থ হয়েছে। এখন সারা দেশে সেই ব্যর্থতার স্বাদ পেতে চাইছে। কিন্তু আমাদের দেশ ধর্মনিরপেক্ষ। এতে হিংসাত্মক আইন বাস্তবায়নের কোন সুযোগ নেই।

যয়নব, ফাতেমা এবং সাফওয়ানা বলেন, এই আইনে শুধু মুসলিমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ ধারণা ভুল। এর দ্বারা সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের SC, ST স্তর।

তারা আরো বলেন, দরিদ্রতা, শিক্ষা বঞ্চনা, চিকিৎসা, জীবন-যাপনে জন- সাধারনের ভোগান্তি- এসব নিত্যকার সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে সরকার এই বিতর্কিত আইন উপস্থাপন করেছে।

আখতার, রিদওয়ানা, লাবিবা ও রাফিয়া বলেন, যেভাবে সারা দেশের মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে এসেছে এবং অবস্থান কর্মসূচীর মাধ্যমে বিক্ষোভ প্রদ্র্শন করছে, তাতে পার্লামেন্টে চালু করা বিতর্কিত এই দুই আইন বাতিলের ঘোষণা দিতেই হবে সরকারকে।

তাসির ডটকম অবলম্বনে নুরুদ্দিন তাসলিম 

আরএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ