মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও মূল্যস্ফীতি ইস্যুতে কর্মসূচি ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না: তারেক রহমানকে ট্রাম্প নিজের জীবনের পুরো সঞ্চয় দিয়ে মসজিদ নির্মাণ ৮৪ বছরের বৃদ্ধের ‘তিন-চার বছরের মধ্যে মসলা জাতীয় পণ্যে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে যাবে’  ‘ভারতের মুসলমানরা বাইরের কেউ নন, আমাদেরই ভাই’ ‘স্বপ্নসিঁড়ির’ নাতে রাসুল প্রতিযোগিতা, ওমরাহসহ লক্ষাধিক টাকার পুরস্কার ২০২৭ সালের এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা মবের অপসংস্কৃতি রোধে সরকার সজাগ রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজানের জবাব দেওয়ার ফজিলত আনসার-ভিডিপিকে গঠনমূলক কাজে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

মুসলিমবিরোধী আইন: দেওবন্দে নারীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: পুলিশের কড়া নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন "এন আর সি"র বিরুদ্ধে দেওবন্দ ঈদগাহে মুসলিম নারীদের অনির্দিষ্টকালীন বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান ৭ম দিনেও অব্যাহত রয়েছে।

গুরু দুয়ারা, পাঠান পাড়া, আবুল মাআলি, জিয়াউল হক, রেলওয়ে রোড, খানকা এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল সংখ্যক নারী ছোট শিশু সন্তানদের নিয়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করছেন।

সবার হাতেই শোভা পাচ্ছে সিএএ বিরোধী বিভিন্ন ব্যানার ও পোস্টার। সরকারের বর্ণবাদী আইনের ধ্বংস কামনা করে সবাই বিভিন্ন শ্লোগান দিচ্ছেন। সময় গড়ানোর সাথে সাথে বিক্ষোভ সমাবেশও কঠোর হচ্ছে। ছোট বাচ্চারা বিক্ষোভে নতুন রঙ ঢেলে দিচ্ছে। বিক্ষোভের নতুন নতুন কৌশল বের করছে।

মেয়েরা মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে, বাচ্চারা গালে জাতীয় পতাকা এঁকে নিজেদের বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে।

মহিলারা স্টেজের মাইকে ঘোষণা দিচ্ছেন, তারা নাগরিকত্ব প্রমাণের নথিপত্র দেখাবেন না। কারণ তারা ভারতেরই নাগরিক। আর এখন তা প্রমাণের কোন প্রয়োজন নেই।

বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজক এবং নারী ঐক্য কমিটির প্রধান আমেনা রুশি তার বক্তব্যে বলেন, দেশের সংবিধান এবং গণতন্ত্র রক্ষায় সবাই আন্দোলন করছে। কেননা বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন আমাদের দেশের আইনের বিপরীত। যুগ যুগ ধরে এখানে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে আসছে। এই সম্প্রীতিই আমাদের দেশের পরিচয় বহন করে।

অথচ বর্তমান সরকার নিজের অবৈধ ইচ্ছা পূরণে এই মহান সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। কিন্তু দেশের আমজনতা সরকারের এ ইচ্ছা কখনো পূর্ণ হতে দিবেনা।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নাজিয়া পারভীন, সালমা আহসান, হাজেরা খান বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের ক্ষতি সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, বিতর্কিত বর্ণবাদী নাগরিকত্ব আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার মূলত নিজের অক্ষমতা ঢাকতে চাইছে- কিন্তু দেশের জনগণ তা বুঝতে পেরেছে।

আজমী উসমানী, হুমা কোরেশী, ফাইজিয়া সারওয়ার, সাজেদা খান বর্ণবাদী নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, স্বাধীনতার ৭৩ বছর পরে আমাদের কাছে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে। দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের জন্য এর থেকে বড় অপমান আর কি হতে পারে!

তারা আরো বলেন, সরকার আসামে এন আর সি বাস্তবায়ন করে অনেক আগেই ব্যর্থ হয়েছে। এখন সারা দেশে সেই ব্যর্থতার স্বাদ পেতে চাইছে। কিন্তু আমাদের দেশ ধর্মনিরপেক্ষ। এতে হিংসাত্মক আইন বাস্তবায়নের কোন সুযোগ নেই।

যয়নব, ফাতেমা এবং সাফওয়ানা বলেন, এই আইনে শুধু মুসলিমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ ধারণা ভুল। এর দ্বারা সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের SC, ST স্তর।

তারা আরো বলেন, দরিদ্রতা, শিক্ষা বঞ্চনা, চিকিৎসা, জীবন-যাপনে জন- সাধারনের ভোগান্তি- এসব নিত্যকার সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে সরকার এই বিতর্কিত আইন উপস্থাপন করেছে।

আখতার, রিদওয়ানা, লাবিবা ও রাফিয়া বলেন, যেভাবে সারা দেশের মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে এসেছে এবং অবস্থান কর্মসূচীর মাধ্যমে বিক্ষোভ প্রদ্র্শন করছে, তাতে পার্লামেন্টে চালু করা বিতর্কিত এই দুই আইন বাতিলের ঘোষণা দিতেই হবে সরকারকে।

তাসির ডটকম অবলম্বনে নুরুদ্দিন তাসলিম 

আরএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ