আবদুল্লাহ তামিম।।
জাপানে প্রতি দশ জনে এক জন একাকি মৃত্যু বরণ করে। একটি রুমে মরে পচে গলে গন্ধ বের হলে লোকে জানতে পারে এই ঘরে একাকী বাস করা লোকটি মারা গেছে! তার লাশ সৎকারেরও কেউ থাকে না।
বিবিসির এক প্রতিবেদন জানায়, ২০১৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জাপানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০ জন মানুষ আত্মহত্যা করে। সেই হার এখন আরো বেশি। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সাথে তুলনা করলে দক্ষিণ কোরিয়া বাদে অন্য কোনো দেশে আত্মহত্যার হার এত ব্যাপক নয়।
ঢাকার খিলগাঁও খিদমাহ হাসপাতালের নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ, ডা. মশিউর রহমানের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জাপানে যারা আত্মহত্যা করে, তাদের লাশ পঁচে গলে গন্ধ বের হলে পোকা মাকড় মশা মাছিতে ভরপুর এসব মৃত দেহ পরিষ্কারের জন্য সাফাই নামক অসংখ্য কোম্পানি সেগুলো পরিস্কার করে।
মৃত্যুর আগে অনেক মানুষ এসব কোম্পানীর সাথে চুক্তি করে রাখেন যাতে তারা মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করে।
বিবিসির একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, জাপানিদের আত্মহত্যা প্রবণতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো প্রযুক্তি নির্ভর জীবন। মানুষকে রোবটের মত করে তুলে যে জীবন। যতটা প্রযুক্তি নির্ভর হচ্ছে তাদের সমাজ, তটাই আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে।
জাপানের বিশেষজ্ঞ মি. নিশিদা বলেন, প্রযুক্তি নির্ভর জাপানের সমাজে রাগ বা ক্ষোভ প্রকাশ করার খুব একটা সুযোগ নেই। অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা ও অনিরাপত্তার পাশাপাশি অভিযোগ না করার মানসিকতার সংস্কৃতিও বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যা বাড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, দিনদিন প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং প্রসারের কারণে এই অবস্থার আরো অবনতি হচ্ছে জাপানে। আধুনিক প্রযুক্তি তরুণদের সমাজ থেকে আরো বিচ্ছিন্ন করছে। আর তারা যতটা সমাজ থেকে দূরে যাচ্ছে ততই মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার এই প্রবণতার একটি বিশেষ নামও রয়েছে জাপানে; এটিকে বলা হয় ‘হিক্কিমোরি’। জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভাষায়, হিক্কিমোরি হ