মুহাম্মদ জিয়াউল হক।।
মসজিদ কেবল উপাসনালয় নয়। একই সাথে এটি একটি সামাজিক মিলনমেলা এবং একটি Mass communication centre বা গণযোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবেও স্বীকৃত। এখানে একজন ইমামকে যেমন নামাজে ইমামতি করতে হয়; তেমনি সময়ের প্রয়োজনে সমাজের ইমাম হিসেবেও আবির্ভূত হতে হয়।
ইসলামের প্রারম্ভিক সময়ে মসজিদ সামষ্টিক কল্যাণে নাগরিক পরামর্শশালা হিসেবে বহু আর্থ-সামাজিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। জাতীয় ক্রান্তিকালে গুরুত্বপূর্ণ রাজ ফরমান ও প্রয়োজনীয় গণসচেতনতা সৃষ্টি হত মসজিদ থেকে। একটা সময় শিশু শিক্ষার হাতেখড়ি হত মসজিদের আঙিনা থেকেই। এর বাইরে জনসেবা ও সমাজকল্যাণে মসজিদের মুসল্লিরা সম্মিলিত উদ্যোগে কাজ করতেন। নামাজে মুসল্লীরা ধনী- দরিদ্রের তফাৎ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একত্রে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে যে মানবিক সাম্যের দৃষ্টান্ত তৈরি করতেন, সমাজে সেই সাম্য ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় একে অন্যের আপদে পাশে এসে দাঁড়াতেন।
কালক্রমে মসজিদ তার সেই বহুমাত্রিক আবেদন ও ঐতিহ্যগত জৌলুস হারিয়ে ফেলেছে। বর্তমানে দৈনন্দিন উপাসনার বাইরে মসজিদকেন্দ্রিক কল্যাণ ও সেবা তৎপরতা এবং বৈচিত্র্যময় কর্মমুখরতা বিরলদৃষ্ট। একটা সময় মক্তব শিক্ষা যখন বহুল প্রচলিত ছিল; ভোরবেলায় মসজিদের আঙিনা শিশুদের কল-কাকলিতে মুখরিত হতো। নগর সভ্যতায় গ্রামীন সেই মনোরমা স্নিগ্ধ সকাল এ প্রজন্মের অচেনা।
দৈনন্দিন ধর্মাচারের বাইরে সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার ফলে মসজিদের মধ্যমণি ইমামগণ সমাজের মূল জীবনপ্রবাহের বাইরে অবস্থান করেন। চলতি সমাজ সংকট উত্তরণে ইমামগণ তাই অতটা ওতপ্রোতভাবে যুক্ত হতে পারেন না। অথচ একটা সমাজে একজন ইমাম হলেন সর্বজন গ্রহণযোগ্য , বরেণ্য ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। এই আস্থা ও বিশ্বাসের সুবাদে তার সামনে বিশাল সুযোগ ছিল , সমাজে নানা ইতিবাচক ভূমিকা রাখার। দুর্যোগে, মহামারীতে, ক্ষুধায়, দারিদ্র্যে, অভাব-অনটনে মানুষের সবচেয়ে কাছাকাছি থেকে জনকল্যাণে অতি সহজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারতেন একজন ইমাম ।
কোভিড ১৯ সৃষ্ট করোনা মহামারি ইমামকে তার সেই ঐতিহাসিক ও প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখার পরিবেশ- পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছে।
বৈশ্বিক এ মহামারির আর্থ-সামাজিক ধাক্কা অনেক প্রলম্বিত ও বিস্তৃত হবে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। বাংলাদেশে এখনো খুব নাজুক পরিস্থিতি তৈরি না হলেও ইউরোপ ও মধ্যপà