সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
টঙ্গীতে ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে সহোদরসহ ৪ শিশুর মৃত্যু   সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ রিয়াদে হামলার নিন্দা, ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের উচ্চস্বরে আজানের অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, মাইক জব্দ উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু নিন্দা নয়, সচেতন মন গঠন জরুরি: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা মদিনায় ইফতার সরবরাহে ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের আবেদন আহ্বান ১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম নিকাব নিয়ে কটূক্তি: ঢাবির সেই শিক্ষিকাকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা

করোনাকালে যাপিত জীবনের সুখ-দুঃখ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

উবায়দুল্লাহ তাসনিম।।

চোখে দেখা যায় না,ছোঁয়া যায় না, অনুবীক্ষণ যন্ত্রেও ঝাপসা লাগে এ ছোট্ট ভাইরাসটি পৃথিবীকে থমকে দিচ্ছে। চলৎশক্তিহীন মানুষ। নিস্তরঙ্গ জীবন!

জনজীবনে নেই কোলাহল আর ব্যস্ততা। সবাই নির্জীবের মতো। ঘরবন্দি জীবন-যাপন করছে মানুষ।

করোনার সামনে মানুষ আজ অসহায়। বিজ্ঞান তার চিরাচরিত নিয়মে অসহায়ত্বের চৌহদ্দিতে আটকে আছে। করুণ চোখে তাকিয়ে খুঁজছে সমাধানের পথ। কিন্তু না, পারছে না। তার খোঁড়াপনা দেখে প্রকৃতির সে কী বিদ্রুপের হাসি!

স্বার্থের কুঠুরীতে আবদ্ধ সাম্রাজ্যবাদী মুরব্বীরা হতাশ। সমাধানের নেই কোন পথ। মানুষ মেরে সম্পদ চুষে খাবার সেই যে রাক্ষুসেপনা, এতে শান্ত পৃথিবীর মাটি থরথর কাঁপত। আজ তাদের নির্জীব ঘুমে মাজলুমানের আত্মার খুশিতে ব্যাঙ্গাত্মক খিলখিল হাসি!

ক্লান্ত দুপুরে ইট-ক্রংকিটের বিষণ্ণ শহরে বেরিয়েছিলাম। থমকে গেছে জনজীবন। হই-হুল্লোর আর প্রাণবন্ত শহরের সজীবতা নেই। মৃত্যুপুরীর কাছাকাছি। ঝিম দুপুরে চঞ্চলময় শহরটা ঘুমুচ্ছে যেনো।

কামাল চাচার ফুলের দোকান বন্ধ। দু'একটা প্রাণহীন শুকনো ফুল দুলছে পাশটায়।অনেক দিন ধরে বিক্রি হতে না পারায় সজীব ফুলটা আজ আত্মহুতি দিয়েছে। ফুলের গগণবিদারী অার্তনাদ শুনে আমারও কান্না আসে। সহমর্মিতা রক্ষার তাগিদে আমি নববধূর মতো মুখ গুঁজে এখটুখানি কেঁদে নেই। তবুও যদি ব্যাথার সামান্য উপশম হয়!

পথের ধারে শুকনো কতোগুলো ডাস্টবিন। কতোদিন হলো, উচ্ছিষ্ট খাবার বহন করছে না তারা। খাবারের উদ্দেশ্যে হন্য হয়ে ছুটে আসা কত্তোগুলো কুকুর খাবার কুঁড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টায়, প্রচন্ড খিদে পুড়ে করুণ জিহব্বা বের করে হাঁপিয়ে যাচ্ছে।

রাস্তার অদূরে সারি সারি একগুচ্ছ গাছ। সাধু-সন্নাসীর ভাব নিয়ে সবাই একমনে দাঁড়িয়ে। রিক্ত শাখায় নতুন কিশলয়ের উঁকিঝুকি। ডালের কোন কোনটা কচকচে সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে। বুঝা যাচ্ছে, সবাই ওরা অক্সিজেন নির্মানে ব্যস্ত। অথচ, অথচ মানুষগুলো!

অক্সিজেনে বেঁচে থাকার মানুষগুলো গাছগুলোর অবারিত, অকৃপন পরিবেশিত অক্সিজেনের উপঢৌকন কি নিচ্ছে?

ওসব মানুষ তো আজ মৃত্যুর নীল থাবার ভয়ে গৃহবন্দি যাপন করছে! করোনার ভয়ে কুঁকড়ে থাকছে একেকজন। এই বুঝি, করোনা আক্রমণ করে বসে!

নীলাভ আকাশের নীলে ছেয়ে যাওয়া বিষাদে যেনো নীল রঙ খানিকটা ধূসর বর্ণ পড়েছে। তবে অসীম নীলাভ আকাশটাও কি অসহায় মানবজাতির সহমর্মী হয়ে যন্ত্রণাকাতর?

আকাশের অধিপতি অনেকদিন থেকেই সতর্ক করে আসছিলেন। হত্যা, খুন, ধর্ষণ, আত্মসাৎ, সামাজ্যবাদ বিস্তারের কু-লিপ্সাসহ রাশি রাশি