আওয়ার ইসলাম: পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিন অধ্যুষিত এলাকা দখলের পরিকল্পনা করেছে ইসরায়েল। এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও সমর্থন আছে। ইসরায়েলের এমন পরিকল্পনা এবং তাতে মার্কিন সমর্থনের নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের ৫০ জন বিশেষজ্ঞ। তাদের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানা যায়।
বিবৃতিতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তকে বেআইনি আখ্যা দিয়েছেন জান্তিসংঘের অধিকার বিষয়ক ৫০ বিশেষজ্ঞ। অন্যান্য রাষ্ট্রকে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত এলাকা দখলের মানেই হচ্ছে জাতিসংঘের জেনেভা সম্মেলনকে অস্বীকার, জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলের নীতিমালা লঙ্ঘন, জাতিসংঘের সাধারণ সম্মেলনে নেয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা, বলা হয় বিবৃতিতে।
এতে আরো বলা হয়, ইসরায়েল যদি ভূখণ্ড দখল করে নেয় তাহলে ফিলিস্তিনিদের কাছে পশ্চিম তীরের মাত্র ৩০ শতাংশ ভূমি অবশিষ্ট থাকবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ৫৩ বছর আগে গড়া ইসরায়েলি বসতিই হলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় উৎস। তারা যুগের পর যুগ ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর অমানবিক অত্যাচার করে আসছে। অথচ এ বিষয়ে কেউ তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
আরব নিউজ বলছে, প্রকাশিত এই বিবৃতির বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কিংবা তার মুখপাত্র কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই পশ্চিম তীর দখল করার দৃঢ় প্রতীজ্ঞা নিয়ে ইসরায়েল এগিয়ে যাচ্ছে। এজন্য দেশটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে।
ঘটনার শুরু গত জানুয়ারি মাসে। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানি শীর্ষ জেনারেল কাশেম সোলায়মানির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা হয়। সে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তথাকথিত ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে একটি চুক্তি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। চুক্তিটি ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করলেও ইসরায়েল তা লুফে নেয়।
আর এর ওপর করেই পশ্চিম তীর দখল করার পরিকল্পনা হাতে নেয় ইসরায়েল।
-এটি