ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক।।
নূসুস মানে কুরআন ও হাদীসের মূল টেক্সট যা শরীআর মূল উৎস, শরীআ মানে নূসুসের আলোকে সাহাবী ও পরবর্তী বিশিষ্ট আলিমদের দেখানো পদ্ধতি যার বৈধতা স্বয়ং নূসুস সাব্যস্ত করেছে, তারীখ মানে ইতিহাস যা বাস্তবে ঘটেছিলো। আয়া সুফিয়ার মসজিদে রূপান্তর সিদ্ধান্ত কী নসূস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছিলো? সে ইতিহাসটা-ই এখানে তারীখ বলছি।
নূসুস অন্যন্য ধর্মালম্বীদের উপাসনালয় নিয়ে কী বলে?
এক. পবিত্র কুরআনের সূরা হজ্জের ৪০ নং আয়াতে বিভিন্ন ধর্মালম্বীদের উপসনালয় সম্পর্কে একটি নির্দেশনা পাওয়া যায়। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ যদি মানুষদের এক দলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে যেখানে আল্লাহর নাম বেশী করে স্মরণ করা হয় সেসব আশ্রম [১], গীর্জা [২], ইবাদতখানা [৩] ও মসজিদ [৪] বিধ্বস্ত হয়ে যেতো। আর নিশ্চয় আল্লাহ্ তাকে সাহায্য করেন যে আল্লাহকে সাহায্য করে। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিশালী পরাক্রান্ত [আল-কুরআন, ২২:৪০]।
আয়াতে বিধৃত [১] صَوَامِعُ এ শব্দটি صَوْمَعَةٌ এর বহুবচন যাতে খ্রীস্টানদের পাদ্রী, যোগী, সন্নাসী, সংসার বিরাগী সাধুুরা থাকেন। [২] আর بِيَعٌ শব্দটি بِيْعَةٌ এর বহুবচন যা সাধারণ খ্রীস্টানদের গীৰ্জা। [৩] ইয়াহুদীদের ইবাদাতখানাকে صَلَوَاتٌ বলা হয় যা আরামীয় শব্দ। অনেকের ধারণা শব্দটি ল্যাটিন হয়ে ইংরেজিতে Salute ও Salutation এর রূপ পেয়েছে। [৪] সর্বশেষ مَسَاجِدُ শব্দটি مسجد শব্দের বহুবচন যা মুসলিমদের ইবাদাতখানাকে বলা হয় [মূফতি শফী, মাআরিফুল কুরআন]।
আয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে, যুগে যুগে নবীদের উপর কাফেরদের সাথে যুদ্ধ ও জিহাদের আদেশ নাযিল না হলে কোন যুগেই আল্লাহর দ্বীনের নিরাপত্তা থাকত না। মূসার (আ.) আমলে صَلَوَاتٌ, ঈসার (আ.) আমলে صَوَامِعُ ও بِيَعٌ এবং নবীজীর (সা.) আমলে মসজিদ সমূহ বিধ্বস্ত হয়ে যেতো। এ আয়াতে কেবল বিগত যামানায় যত শরীআতের ভিত্তি আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং ওহীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো সে সমস্ত শরীআতের ইবাদত গৃহ সমূহের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্ব-স্ব যামানায় তাদের ইবাদাত গৃহ সমূহের সম্মান ও সংরক্ষণ ফরয ছিল। বর্তমানে সেসব ইবাদতস্থানের সম্মান করার নিয়ম রহিত হয়ে গেছে [আল-কুরতুবী, আহকামুল কুরআন]।
এ আয়াতের তাফসীরে ব্যাখ্যাকারগণ সূরা বাকারার ২৫১ নং আয়াতটি উল্লেখ করেছেন যেখানে বলা হয়েছে, ‘আর আল্লাহ্ যদি মানুষের এক দলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন তবে পৃথিবী বিপর্যস্ত হয়ে যেতো। কিন্তু আল্লাহ সৃষ্টি